উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক : সদ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি পেয়েছেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়কদের গোষ্ঠীর নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী দলনেতার ঘরের চাবিও হাতে পেয়ে গিয়েছেন তিনি। আর এরপরই সেই নতুন ঘরে বসেই প্রথমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বড়সড় রাজনৈতিক বিস্ফোরণ ঘটালেন নতুন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। সাংবাদিক সম্মেলনে ঋতব্রতবাবু স্পষ্ট জানান, “আমরা আপাতত ৫৮ জনের টিম। অনেকেই এই মুহূর্তে রাজ্যের বাইরে আছেন। খুব দ্রুতই এই সংখ্যাটা বেড়ে ৬০ হবে। সেই সমস্ত বিধায়কদের সমর্থনের চিঠি আজ আমরা বিধানসভার অধ্যক্ষের (স্পিকার) কাছে জমা দিয়েছি।”
তবে এদিন সবচেয়ে বড় চমক ছিল ঋতব্রতের মুখ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া একটি বিশেষ প্রস্তাব। তিনি বলেন, “আমরা মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমাদের প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে থাকার আবেদন জানাচ্ছি। তাঁর কাছে আমাদের সনির্বন্ধ অনুরোধ রইল এটি।” একই সঙ্গে নতুন বিরোধী দলের রণকৌশল স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “আমরা বিধানসভায় সম্পূর্ণ গঠনমূলক বিরোধীর ভূমিকা পালন করব। স্রেফ ওয়াক আউট (Stroll out) করে শাসকদলকে কোনো বাড়তি সুবিধা আমরা দেব না।” তবে এদিনের বৈঠক থেকে কার্যত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্তিত্বই অস্বীকার করতে চাইলেন এই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর বিধায়করা। নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক বলে দাবি করে বলেন, অষ্টাদশ রাজ্য বিধানসভার সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও সম্পর্ক নেই।
বিধানসভার এই নজিরবিহীন নাটকীয়তার সমান্তরালে এদিন তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে। সিআইডি (CID) সমন থাকা সত্ত্বেও, অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়ানো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আচমকাই হাজির হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। তাঁর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছান কুণাল ঘোষও। বিধানসভার এই নতুন সমীকরণের মাঝেই কালীঘাটের এই জরুরি বৈঠককে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে এখন তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।
