উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের হিজাব বিতর্কের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রীর রক্ষাকর্তা হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং। তবে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য বিতর্ককে প্রশমিত করার বদলে আরও উসকে দিয়েছে। আয়ুষ (AYUSH) চিকিৎসকদের নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে এক মুসলিম মহিলার হিজাব সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় নীতীশ কুমারের সমালোচনা যখন তুঙ্গে, তখন গিরিরাজ সিং সাফ জানিয়ে দিলেন, “নীতীশ কুমার কোনও ভুল করেননি।”
এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে গিরিরাজ সিং বলেন,”নিয়োগপত্র নিতে গেলে মুখ দেখাবেন না কেন? এটা কি কোনও ইসলামিক রাষ্ট্র? নীতিশজি একজন অভিভাবকের মতো আচরণ করেছেন। পাসপোর্ট বা এয়ারপোর্টে কি কেউ মুখ দেখায় না? পাকিস্তান বা ‘ইংলিশস্তান’ নিয়ে কথা বলবেন না, এটা ভারত এবং এখানে ভারতীয় আইনই চলবে।”
যখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয় যে, ওই মহিলা যদি অপমানিত বোধ করে চাকরি নিতে অস্বীকার করেন তবে কী হবে? গিরিরাজ সিং ক্ষুব্ধ হয়ে উত্তর দেন, “সে প্রত্যাখ্যান করুক বা নরকে যাক (Woh refuse kare yaah jahannum mein jaye)”। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির কন্যা তথা পিডিপি নেত্রী ইলতিজা মুফতি গিরিরাজ সিংয়ের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ তিনি লেখেন,”এই ব্যক্তির নোংরা মুখ পরিষ্কার করতে ফিনাইল লাগবে।”
নীতিশ কুমারের দল জনতা দল ইউনাইটেড (JDU) বিষয়টিকে লঘু করার চেষ্টা করছে। সংখ্যালঘু কল্যাণ মন্ত্রী জামা খান দাবি করেছেন যে, নীতিশ কুমার এক ‘মুসলিম কন্যার’ প্রতি পিতৃসুলভ স্নেহ প্রদর্শন করেছেন। তিনি চাননি মেয়েটির সাফল্যের দিনে তাঁর মুখ ঢাকা থাকুক।
তবে এনডিএ জোটের শরিক দল ‘নিশাদ পার্টি’-র নেতা সঞ্জয় নিশাদ এক অত্যন্ত কুরুচিকর মন্তব্য করে বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। তিনি বলেন, নীতিশ কুমার তো একজন মানুষ, তাঁর পেছনে এভাবে লাগা ঠিক নয়। তিনি আরও বলেন, “নেকাব ছুঁয়েছে বলে এত হাঙ্গামা, অন্য কোথাও ছুঁলে কী হতো?” তাঁর এই মন্তব্যে নারী সুরক্ষা ও মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
বিরোধীরা দাবি করছে, ৭৪ বছর বয়সী নীতিশ কুমার বার্ধক্যজনিত কারণে মানসিক স্থিতিশীলতা হারিয়েছেন। অন্যদিকে বিজেপি ও জেডিইউ এই ঘটনাকে নিছক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বা স্নেহ হিসেবেই তুলে ধরছে। এই আবহে বিহারের আসন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ‘হিজাব বিতর্ক’ যে বড় ইস্যু হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
