RG Kar | আরজি কর কাণ্ডে নতুন মামলা রাজ্যের! মেয়ের স্মরণসভায় আবেগবিহ্বল মা রত্না দেবনাথ

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: আরজি করের (RG Kar) তরুণী চিকিৎসক-ছাত্রীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে নিজের অন্তরের গভীর ক্ষত ও আক্ষেপের কথা প্রকাশ করলেন পানিহাটির বিধায়ক তথা মৃতার মা রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath)। রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির লোকসংস্কৃতি ভবনে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁর মেয়েকে যেন কেবল ‘নির্যাতিতা’ বা ‘অভয়া’ হিসেবে না দেখে, একজন চিকিৎসক হিসেবেই চিরকাল স্মরণ করা হয়। একইসঙ্গে সিবিআই ও আদালতের চলমান তদন্তের বাইরে গিয়ে এই ঘটনায় নতুন করে পৃথক মামলা রুজু করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিনের স্মরণসভায় কন্যাহারা বাবা-মায়ের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় জানিয়ে দেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করতে তাঁর সরকার এক পা-ও পিছপা হবে না। বিচারাধীন মামলার কারণে সাংবিধানিক পদে থেকে বিস্তারিত মন্তব্য না করলেও, কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই পুলিশের শীর্ষস্থানীয় তিন আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানান তিনি। অপরাধের কোনো ধর্ম বা স্বজনপ্রীতি হয় না উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) দৃঢ় কন্ঠে বলেন, “আমি যা করার করছি, করব। এর শেষ দেখে ছাড়ব।”

আরজি কর কাণ্ডে মৃতার দেহ দ্রুত দাহ করা এবং তার পেছনের রহস্য নিয়ে বহু প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। সেই বিষয়টিকে সামনে রেখেই একটি নতুন এবং পৃথক মামলা রুজু করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, যে শ্মশানঘাটে দেহ দাহ করা হয়েছিল, সেখানে তিন ব্যক্তি—নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা খতিয়ে দেখা একান্ত প্রয়োজন। এছাড়া দেহ দাহ করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি কেন, সেই প্রশ্ন তুলেও ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারকে বিশেষ কমিটি গঠন করে অবিলম্বে এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এদিনের স্মরণসভায় মেয়ের ছোটবেলার স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন রত্না দেবী। মেয়ের হাতে লাগানো গাছের ফুল ফোটার গল্প বলতে বলতে তিনি বলেন, “আমরা একটা ডায়মন্ড পেয়েছিলাম, কিন্তু হারিয়ে ফেললাম।” সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্যেও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই ঘটনার আইনি লড়াইয়ের সঠিক উপসংহারে তাঁরা পৌঁছাবেনই। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজন ও সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার হন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *