উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ তীব্র উত্তেজনা ও রাজনৈতিক সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে আজ সকালেই শুরু হয়েছে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন (Rejinagar By Ballot Humayun Kabir)। ভোটগ্রহণ কেন্দ্রগুলিতে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও সকাল থেকেই বিক্ষিপ্ত অশান্তি ও অভিযোগে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক ময়দান। বিশেষ করে রেজিনগরে ভোটলুটের অভিযোগ তুলে পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘যুদ্ধের’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। সাধারণ মানুষকে পুলিশকে প্রতিহত করার ডাক দিয়ে তাঁর চরম মন্তব্যে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ভোটগ্রহণ শুরু হতেই রেজিনগরের বিভিন্ন বুথ থেকে গন্ডগোলের খবর আসতে শুরু করে। ক্ষোভে ফেটে পড়ে হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, সকাল থেকেই বুথগুলিতে ভোট লুট চলছে এবং বিজেপি সাধারণ ভোটারদের বাধা দিচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “প্রতিটি বুথে অ্যালসেশিয়ান (কুকুর) ছেড়ে দিয়েছে। পুলিশের সঙ্গে যুদ্ধে যাব। ভোটলুট হচ্ছে সকাল থেকে। কমিশন ঘুমোচ্ছে। পুলিশ কী ধোয়া তুলসিপাতা নাকি? আম পাবলিকের টাকায় যাদের বেতন হয়, তারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে।”
এখানেই না থেমে তিনি আরও বলেন, “আজ পুলিশ যে ধরনের আচরণ করছে, সাধারণ মানুষকে বলব মুগুর নিয়ে রুখতে। প্রয়োজনে পুলিশের সঙ্গে যুদ্ধে যাব। রেজিনগরের ওসিকে কী করি দেখুন। ভোটলুট করবে আর পুলিশকে কী রসগোল্লার হাঁড়ি পাঠাব? পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করুক।” পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তা ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তিনি আক্রমণ শানান।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রেজিনগর উপনির্বাচনে মোট ১৫ জন প্রার্থীর রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হচ্ছে। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৫৬ হাজার ৫৪৬ জন। ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ করতে ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। মোট ৩১৫টি ভোটকেন্দ্রে ১৫৮০ জন ভোটকর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গোটা এলাকায় মোট ৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রতিটি বুথেই সেন্ট্রাল ফোর্সের পাহারা রয়েছে। এর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ভাগীরথী নদী রেজিনগর বিধানসভাকে দুই ভাগে ভাগ করেছে। এক প্রান্তে শক্তিপুর ও রেজিনগর থানার অধীন ছয়টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং অন্যদিকে বেলডাঙা থানার তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত মিলিয়ে মোট ১৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতে ভোটগ্রহণ চলছে।
সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংঘাত ও হুমায়ুন কবীরের হুঙ্কারকে কেন্দ্র করে রেজিনগরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় জওয়ানরা টহলদারি চালাচ্ছেন।

