উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলায় একটি প্রাচীন প্রবাদ আছে, ‘শীত গেলে ইলিশ, আর বর্ষায় খিলিস’। শাস্ত্রীয় এবং সামাজিক রীতি অনুযায়ী, বিজয়া দশমী থেকে শুরু করে সরস্বতী পুজো পর্যন্ত বাঙালির ঘরে ইলিশ মাছ রান্না নিষেধ থাকে। মূলত ইলিশের প্রজনন রক্ষার্থেই এই প্রাচীন প্রথা। সরস্বতী পুজোর দিন বাড়িতে একজোড়া বড় ইলিশ এনে ‘বরণ’ করার পর শুরু হয় মাছ খাওয়ার পালা। বিশেষ করে পূর্ববঙ্গীয় পরিবারগুলোতে জোড়া ইলিশ ছাড়া পুজোর আনন্দ পূর্ণতা পায় না।
১. সর্ষে-নারকেল ইলিশ ভাপা
সরস্বতী পুজোর দুপুরে গরম ভাতের সঙ্গে ইলিশ ভাপা এক স্বর্গীয় অনুভূতি।
-
উপকরণ: ইলিশ মাছ (৪-৫ টুকরো), কালো সর্ষে ও সাদা সর্ষে বাটা (৩ চামচ), কাঁচা লঙ্কা বাটা, নারকেল কোরা, টক দই, সরষের তেল, নুন ও হলুদ।
-
প্রণালী: মাছের টুকরো ধুয়ে তাতে সর্ষে বাটা, কাঁচা লঙ্কা, ফেটানো টক দই, নারকেল কোরা এবং পরিমাণমতো নুন-হলুদ দিয়ে ভালো করে মেখে নিন। উপর থেকে ৩ চামচ কাঁচা সরষের তেল ছড়িয়ে একটি টিফিন বক্সে ভরে মুখ আটকে দিন। ভাতের হাঁড়ির ওপর বা গরম জলে ২০ মিনিট ভাপিয়ে নিলেই তৈরি জিভে জল আনা ইলিশ ভাপা।
২. বেগুন দিয়ে ইলিশের পাতলা ঝোল
যাঁরা সর্ষে এড়িয়ে চলতে চান, তাঁদের জন্য এটি চিরকালীন সেরা পদ।
-
উপকরণ: ইলিশ মাছ, লম্বা করে কাটা কালো বেগুন, কালো জিরে, কাঁচা লঙ্কা চেরা, হলুদ গুঁড়ো ও সরষের তেল।
-
প্রণালী: কড়াইতে সরষের তেল গরম করে মাছগুলো হালকা ভেজে তুলে নিন। ওই তেলেই কালো জিরে ও কাঁচা লঙ্কা ফোড়ন দিয়ে বেগুনগুলো দিয়ে দিন। নুন-হলুদ দিয়ে নাড়াচাড়া করে অল্প জল দিন। ঝোল ফুটে উঠলে ভাজা মাছগুলো দিয়ে ঢাকা দিন। ৫-৭ মিনিট পর নামানোর আগে সামান্য কাঁচা সরষের তেল ছড়িয়ে দিন। তৈরি হালকা ও সুস্বাদু ইলিশ-বেগুনের ঝোল।
আধুনিকতার ভিড়ে অনেক প্রথা ফিকে হলেও, শিলিগুড়ি থেকে কলকাতা— সব জায়গাতেই সরস্বতী পুজোর সকালে বাজারে রুপোলি শস্যের ঝিলিক আজও অমলিন। এই ঐতিহ্য কেবল রসনাতৃপ্তি নয়, বরং আমাদের সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
The submit Recipe | বসন্তের আবাহনে পাতে জোড়া ইলিশ! জানুন সেরা ২ রেসিপি appeared first on Uttarbanga Sambad.
