কোচবিহার: কেউ সরাসরি তুলে ধরলেন দীর্ঘদিন ধরে চলা পানীয় জলের তীব্র সংকটের কথা, কেউ আবার সরব হলেন বর্ষায় হাঁটুসমান জলকাদায় ঢাকা বেহাল রাস্তা নিয়ে। তবে সবচেয়ে বেশি যে অভিযোগটি উঠে এল, তা হলো আগ্রাসী তোর্ষা নদীর ভয়াল ভাঙন। বুধবার কোচবিহারে ফিরেই নিজের বিধানসভা এলাকার সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শুনতে ‘জনতার দরবার’ (Janatar Darbar)-এ বসলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষ তথা কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক রথীন্দ্র বসু (Rathindra Bose)। ঘুঘুমারির একটি ভবনে এই বিশেষ জনসংযোগ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল।
এদিন প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক দূরত্ব সরিয়ে রেখে ঘুঘুমারিতে সাধারণ একটি চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসেন বিধানসভার অধ্যক্ষ। সেখানে সকাল থেকেই ভিড় জমিয়েছিলেন কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা এলাকার বহু মানুষ। তাঁরা এক এক করে বিধায়কের মুখোমুখি বসে নিজেদের যন্ত্রণার কথা জানান। বাসিন্দাদের প্রতিটি অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিজের ডায়েরিতে নথিভুক্ত করে নেন রথীন্দ্রবাবু।
ঘুঘুমারি এলাকায় এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় আতঙ্ক তোর্ষা (Torsha) নদীর ভাঙন। প্রতি বছর বর্ষা এলেই নদী গ্রাস করছে বিঘার পর বিঘা জমি ও বসতবাড়ি। তোর্ষার করাল গ্রাসে বহু মানুষের ঘরবাড়ি ইতিমধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। এদিন এই সমস্যা নিয়ে সজল চোখে স্পিকারের দ্বারস্থ হন দুর্গতরা। বেলা বর্মন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “তোর্ষা নদীর ভাঙনে আমরা সর্বস্ব হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছি। আজ অধ্যক্ষকে সব জানালাম। উনি নিজে একবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।” একই সুর শোনা গেল পশ্চিম ঘুঘুমারির বাসিন্দা নমিতা বর্মনের গলাতেও। ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে সশরীরে বিধায়কের কাছে এসে উপস্থিত হয়েছেন তিনি।
নদী ভাঙনের পাশাপাশি এলাকার বেহাল নিকাশি ও রাস্তাঘাট নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন বাসিন্দারা। বাড়ুইপাড়ার বাসিন্দা সরস্বতী মিত্র অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের এলাকার প্রধান রাস্তাটির এমন জরাজীর্ণ দশা যে, একটু বৃষ্টি হলেই তা নরককুণ্ডে পরিণত হয়। বর্ষার নোংরা জল ও কাদা মাড়িয়ে আমাদের ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না। রাস্তাটির দ্রুত আমূল সংস্কার প্রয়োজন।”
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই শাসকদলের বিধায়কেরা নিজেদের এলাকায় ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি শুরু করেছেন। বিধানসভার গুরুদায়িত্ব কাঁধে থাকায় রথীন্দ্র বসুকে বছরের বেশিরভাগ সময় কলকাতাতেই ব্যস্ত থাকতে হয়। তবে নিজের এলাকার প্রতি যে তাঁর সমান নজর রয়েছে, বুধবারের এই কর্মসূচি তারই প্রমাণ দিল। সমস্ত অভাব-অভিযোগ শোনার পর অধ্যক্ষ আশ্বাস দিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিতে জানিয়ে সমস্যাগুলি মেটানো হবে।

