উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাজ্য রাজনীতিতে একের পর এক হেভিওয়েটের দলবদল এবং ক্ষোভ প্রকাশের আবহে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে একযোগে দলত্যাগী ও বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘অজুহাত’ হিসেবে খাড়া করে যাঁরা দল ছাড়ছেন, তাঁদের চরম মুখোশ খুলে দিয়ে তৃণমূল (TMC) নেত্রী স্পষ্ট জানালেন, অভিষেক কোনও বাহানা নয়, সে বাঘের মতো ময়দানে লড়াই করছে।
এদিনের লাইভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক এবং একইসঙ্গে আবেগপ্রবণ মেজাজে দেখা যায়। দলের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। সরাসরি শাসকদলকে নিশানা করে মমতা বলেন, “বিজেপির নিজস্ব কোনও সংগঠন নেই। তারা পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে আমাদের সক্রিয় কর্মীদের ভয় দেখাচ্ছে। একটাই কথা বলা হচ্ছে— হয় ওদের কোলে গিয়ে দোলো, না হলে জেলে যাও।” দলে যে একাংশ বেইমানি করেছে, তা নির্দ্বিধায় স্বীকার করে নিয়ে বাংলার মানুষের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চান তিনি। তাঁর কথায়, “যাঁদের আমরা আমাদের প্রতীকে জিতিয়েছিলাম, তাঁদের অনেকেরই অনেক ‘লাগেজ-ব্যাগেজ’ ছিল, যা আমার আগে জানা ছিল না। আজ যাঁরা এজেন্সির ভয়ে বিজেপির ‘ওয়াশিং মেশিনে’ গিয়ে সাধু সাজছেন, তাঁদের চলে যেতে দিন। বুথ, ব্লক ও জেলার যে কর্মীরা দলের জন্য রক্ত দিয়েছেন, তাঁরাই আমার আসল সোনার খনি।”
সাম্প্রতিককালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) নিশানা করে দলের ভেতর ও বাইরে তৈরি হওয়া বিতর্কেরও এদিন জবাব দিয়েছেন দলনেত্রী। দলত্যাগীদের সস্তা রাজনীতিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “হঠাৎ করে অভিষেক আপনাদের কাছে খুব খারাপ হয়ে গেল? ওটা আসলে আপনাদের দল ছাড়ার একটা সস্তা বাহানা। মনে রাখবেন, ওঁর স্ত্রী যখন দেড় বছরের শিশুকে কোলে নিয়ে সিবিআই দপ্তরে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন, তখন আপনাদের এই নৈতিকতা কোথায় ছিল? আজ ওঁর বিরুদ্ধে ২৫-৩০টি মামলা দেওয়া হয়েছে, তবুও সে মাঠ ছাড়েনি। বিজেপির সঙ্গে ‘সেটিং’ করে নিলে অভিষেক সবচেয়ে বেশি রেহাই পেত। কিন্তু সে মাথা নত করেনি, বাঘের মতো লড়াই করে যাচ্ছে। লিখে রাখুন, আগামী ৫০ বছর ওরাই এ দেশের রাজনীতি করবে।”
রাজনৈতিক জীবনের চড়াই-উতরাইয়ের স্মৃতি স্মরণ করে মমতা মনে করিয়ে দেন, লড়াই তাঁর রক্তে। ১৯৯৭ সালে যখন নতুন দল গড়েছিলেন, তখন তাঁর পাশে মাত্র একজন সাংসদ ছিল। ২০০৪ সালে তিনি সংসদে সম্পূর্ণ একা হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিবারই তিনি ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। শূন্য থেকে শুরু করার ক্ষমতা তাঁর আজও আছে। পরিশেষে, আগামী ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশকে সর্বাত্মকভাবে সফল করার ডাক দিয়ে তিনি বলেন, “কে চলে গেল, তাতে দলের কিচ্ছু যায় আসে না। আমার সঙ্গে লক্ষ লক্ষ মানুষের আশীর্বাদ ও কর্মীদের সততা আছে। যতক্ষণ লড়াই শেষ না হচ্ছে, আমার কণ্ঠ কেউ রুদ্ধ করতে পারবে না।”

