প্রণব সূত্রধর, আলিপুরদুয়ার: নিজের নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত করে এক ব্যক্তিকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিল আলিপুরদুয়ার আদালত। ১০ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে আরও দুই মাস জেল। এছাড়াও সরকারের তরফে নির্যাতিতাকে তিন লক্ষ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকের ২০২৩ সালের জানুয়ারির ওই ঘটনায় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা হয়েছিল। শনিবার সরকারি আইনজীবী সঞ্চয় ঘোষ সাংবাদিক বৈঠক করে বিষয়গুলি জানান। সঞ্চয় বলেন, ‘বাবার(Rape sufferer) দ্বারা একজন নাবালিকা যেভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তার জন্য উপযুক্ত শাস্তি হয়েছে। ২০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ঘোষণায় সমাজের কাছে বিশেষ বার্তা যাবে।’
বছর একষট্টির ওই ব্যক্তি কৃষিজীবী। দুই মেয়ে ও ছেলের সঙ্গে থাকছিল সে। স্ত্রী বছর দশেক আগে মারা যান। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে একদিন অষ্টম শ্রেণিতে পাঠরতা বড় মেয়ের উপর চড়াও হয় বাবা। ধর্ষণের শিকার হয় মেয়ে। এরপর দুই মাস ধরে একইভাবে ধর্ষণের শিকার হতে থাকলে থানায় বাবার বিরুদ্ধেই লিখিত অভিযোগ দায়ের করে মেয়ে। অভিযোগ পাওয়ার দিনই বাবাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনায় বিভিন্ন সময় ১৫ জন সাক্ষ্য দেন। বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তারপরেই অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে অ্যাডিশনাল স্পেশাল কোর্ট। এদিন তার সাজা ঘোষণা হয়।
প্রথম ধর্ষণের ঘটনার দেড়-দুই মাস আগে থেকেই নাবালিকার উপর নির্যাতন শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে। বাবার(Rape sufferer) অত্যাচারের ফলেই মায়ের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ নির্যাতিতা, এক বোন ও এক ভাইয়ের। ওই ব্যক্তি দুই বছর ধরে জেলে রয়েছে। নির্যাতিতা ও তার ভাইবোন এখন মামাবাড়িতে রয়েছে।
পুলিশ সঠিক তদন্ত করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই চার্জশিট জমা দেয়। এছাড়াও কয়েকজন আইনজীবী মামলায় সহযোগিতা করার ফলে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি হয়েছে বলে দাবি সরকারি আইনজীবীর।
