উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন : ভক্তদের অটুট বিশ্বাস আর ভক্তি— এই দুইয়ের ওপর ভর করেই অযোধ্যার রাম মন্দিরে প্রতিদিন জমা পড়ে লক্ষ লক্ষ টাকার অনুদান। কিন্তু সেই পবিত্র অনুদানের টাকা ও দেবতার গয়নাতেই এবার থাবা বসাল মন্দিরেরই কিছু অসাধু কর্মী। রক্ষকই যে এক্ষেত্রে ভক্ষকের রূপ নিয়েছে, তা ধরতে শেষমেশ প্রযুক্তির সাহায্য নিতে বাধ্য হল ‘Shri Ram Janmabhoomi Teerth Kshetra Belief’। গোয়েন্দাদের কায়দায় গোপন ক্যামেরা (hidden cameras) বসিয়ে পর্দাফাঁস করা হল মন্দিরের এই মেগা চুরি চক্রের। এই ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ইতিমধ্যেই আটজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
কীভাবে দানা বাঁধল সন্দেহ? গত মে মাসের শেষদিকে ট্রাস্টের আধিকারিকরা ব্যাঙ্কে জমা পড়া টাকার হিসাব (money deposits) মেলাতে গিয়ে প্রথম অসঙ্গতি দেখতে পান। দানবাক্স (donation packing containers) থেকে প্রাপ্ত দৈনিক হিসেবের সঙ্গে ব্যাঙ্কের জমার ফারাক মিলছিল না। বিশেষ করে ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিলে বারবার ঘাটতি দেখা যাচ্ছিল। এরপরই চোর ধরতে অনুদান গোনার ঘরে অত্যন্ত সন্তর্পণে গোপন সিসিটিভি ক্যামেরা বসায় ট্রাস্ট। আর সেই ক্যামেরার ফুটেজেই ধরা পড়ে যায় কর্মীদের নির্লজ্জ চুরির ছবি।
তদন্তে উঠে এসেছে, চুরি করার জন্য রীতিমতো আটঘাট বেঁধে নেমেছিল অভিযুক্তরা। প্রথমত, টাকা গোনার সময় দলেরই কয়েকজন ইচ্ছে করে দৃশ্যমান সিসিটিভি (CCTV Surveillance) ক্যামেরার ভিউ আটকে দাঁড়াত। আর সেই সুযোগে বাকিরা বান্ডিল থেকে টাকা সরিয়ে নিজেদের জামাকাপড়ের ভিতর লুকিয়ে ফেলত। দ্বিতীয় কৌশলটি ছিল আরও মারাত্মক। টাকা গোনার সময় নির্দিষ্ট বান্ডিলে কিছু অতিরিক্ত নোট গুঁজে দিত তারা। ব্যাঙ্ক সাধারণত বান্ডিলের সংখ্যা গোনে, প্রতিটি নোট আলাদা করে গোনে না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভাউচারে টাকার অঙ্ক বাড়িয়ে দেখানো হতো। এরপর মন্দির থেকে ব্যাঙ্কে টাকা নিয়ে যাওয়ার পথে ওই অতিরিক্ত নোটগুলি সরিয়ে ফেলত অভিযুক্তরা। আশ্চর্যের বিষয় হল, টাকা গোনার ঘর থেকে বেরনোর সময় কর্মীদের কোনওরকম তল্লাশি বা ‘frisking’ করা হতো না, যা এই চুরিকে বছরের পর বছর ধরে চালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
নগদ টাকার পাশাপাশি দেবতার উদ্দেশ্যে নিবেদিত সোনার গয়নাও (gold and jewelry) খাতায় কলমে ওঠার আগেই গায়েব করে দেওয়া হতো। কানের দুল, নাকছাবি, চুড়ি ও নুপূরের মতো অলঙ্কার দেদার চুরি গিয়েছে। পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, অনুদানের ভাউচার তৈরির দায়িত্বে থাকা অনুকূল মিশ্র এবং তার শ্যালক লব কুশ মিশ্র এই জালিয়াতির অন্যতম পাণ্ডা। লব কুশের বাড়ি থেকে ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। আরেক অভিযুক্ত অবিনাশ পাণ্ডের ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও চুরির টাকা জমা পড়ার প্রমাণ মিলেছে। এছাড়াও রাম শঙ্কর যাদব এবং সুভাষ চন্দ্রের মতো একাধিক কর্মীর দিকেও নজর রয়েছে ‘Ayodhya Police’-এর।
এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই প্রবল চাপের মুখে পড়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। চরম গাফিলতির নৈতিক দায় স্বীকার করে শুক্রবার ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই (Champat Rai) এবং ট্রাস্টি অনিল মিশ্র (Anil Mishra) পদত্যাগ করেছেন বলে সূত্রের খবর। অন্যদিকে, ‘SIT probe’-এর প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণ মোহনের করা অভিযোগের জেরে সমস্ত আট অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক কড়া ধারায় মামলা রুজু করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

