রাজু হালদার, গঙ্গারামপুর : আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এখন থেকেই সব রাজনৈতিক দল ঘর গোছাতে শুরু করেছে। নেওয়া হচ্ছে নির্বাচনি কৌশল। এই সময় গঙ্গারামপুরে গেরুয়া শিবিরে গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। বিজেপির বুথ সভাপতিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপিরই মণ্ডল সভাপতির বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গঙ্গারামপুর থানার মহারাজপুর এলাকায়। এখানেই শেষ নয়, বিজেপির মণ্ডল সভাপতির বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার দাবিতে দলের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বুথ সভাপতি।
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মণ্ডল সভাপতি নারায়ণ সরকার। তিনি বলেন, ‘মারধর করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছিল। অহেতুক বিষয়টি নিয়ে হইচই করা হচ্ছে।’
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার। গঙ্গারামপুর ব্লকের অন্তর্গত মহারাজপুর এলাকার পাটন বুথের বিজেপির বুথ সভাপতি গৌতম সরকারের স্ত্রীকে স্থানীয় এক তরুণ কটূক্তি করেন বলে অভিযোগ। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত তরুণের সঙ্গে বুথ সভাপতির বচসা হয়। ওই রাতে অভিযুক্ত তরুণ বিষয়টি মণ্ডল সভাপতিকে জানিয়েছিলেন। এরপর ওই ঘটনা নিয়ে চার নম্বর জেলা পরিষদের বিজেপির মণ্ডল সভাপতি নারায়ণ সরকার তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে বুথ সভাপতিকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। গৌতম বলেন, ‘স্থানীয় এক তরুণ আমার স্ত্রীকে কটূক্তি করে। এনিয়ে তার সঙ্গে আমার বচসা হয়। এই প্রেক্ষিতে রাতে মহারাজপুর বাজারে আমাকে মারধর করা হয়। চার নম্বর জেলা পরিষদের বিজেপি মণ্ডল সভাপতি তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে আমাকে মারধর করেন। প্রাণনাশেরও হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে বিজেপি জেলা সভাপতি ও বিজেপির তপশিলি মোর্চার সভাপতিকে হোয়াটসঅ্যাপে লিখিতভাবে জানিয়েছি।’ কেন মণ্ডল সভাপতি তাঁকে মারধর করলেন তা স্পষ্ট নয়। যদিও গৌতমের দাবি, ‘ওই অভিযুক্ত তরুণ মণ্ডল সভাপতির পরিচিত। তাঁর সঙ্গে আমার বচসা হওয়ায় আমাকে মারধর করা হয়েছে। দলীয়ভাবে এর কোনওরকম সুরাহা না হলে, আগামীতে পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হব।’
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে নারায়ণ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। এটা আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে। দলকে এবিষয়ে বিশদে জানাব।’
আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের ঘটনায় রীতিমতো অস্বস্তি বাড়িয়েছে দলের। দলীয় নেতৃত্বকে মারধর করার ঘটনার নেপথ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের আভাস কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে এই বিষয়ে কোনও কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন বিজেপি জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘এই ধরনের কোনও অভিযোগ আমি পাইনি। এসব ব্যক্তিগত সমস্যা হতে পারে। দলগত কোনও বিষয় নয়।’
