উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাম মন্দিরের প্রণামী চুরির (Ram Mandir donation rip-off) ঘটনায় উত্তাল অযোধ্যা। এই অনভিপ্রেত ঘটনার রেশ ছড়িয়ে পড়েছে আইনি মহলেও। অযোধ্যা বার অ্যাসোসিয়েশন (Ayodhya Bar Affiliation) সোমবার এক জরুরি বৈঠকে ঐতিহাসিক ও কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে—প্রণামীকাণ্ডে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তির হয়ে সংগঠনের কোনো সদস্য আদালতে সওয়াল করবেন না। শুধু তাই নয়, যদি কোনো আইনজীবী এই নির্দেশ অমান্য করে অভিযুক্তদের পক্ষ নেন, তবে তাঁর ওপর ৫ লক্ষ টাকা জরিমানার ফরমান জারি করেছে বার অ্যাসোসিয়েশন।
এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’। ট্রাস্টের তিন শীর্ষ কর্মকর্তা—চম্পত রাই, অনিল মিশ্র এবং গোপাল রাওয়ের বিরুদ্ধেও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কালিকাপ্রসাদ মিশ্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের সঙ্গে এই তিন কর্মকর্তার যোগাযোগ ও সংশ্লিষ্টতার তথ্য সামনে আসায় তাঁদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অযোধ্যা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায়, বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে গোটা শহর অবরুদ্ধ করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে আইনজীবীদের এই সংগঠন। ইতোমধ্যে চম্পত রাই সহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলার আর্জি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে বার অ্যাসোসিয়েশন এবং পুরো ঘটনার সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবিও তোলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রণামী নিয়ে অনিয়মের প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) (SIT)-এর সুপারিশ মেনে আটজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে অযোধ্যা পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মণীশকুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং টিনু যাদবকে। অভিযুক্তদের ডেরা থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা ‘হিসাব-বহির্ভূত’ নগদ অর্থ। তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, এই ধৃতদের অনেকের সঙ্গেই ট্রাস্টের শীর্ষ কর্তাদের গোপন যোগাযোগ ছিল। বর্তমানে ধৃতরা বিচারবিভাগীয় হেপাজতে রয়েছেন এবং তাঁদের বাড়িতে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশি তল্লাশি চালানো হয়েছে।
মন্দিরের পবিত্রতা ও অছিভুক্ত অর্থের এই লুঠতরাজ নিয়ে অযোধ্যাবাসীর ক্ষোভ চরমে। আইনজীবীদের এই অভূতপূর্ব বয়কট এবং প্রশাসনিক তৎপরতা পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার। রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। একদিকে মন্দিরের ট্রাস্টের অন্দরে দুর্নীতির ছায়া, অন্যদিকে আইনি লড়াইয়ে অভিযুক্তদের একঘরে করার প্রয়াস—সব মিলিয়ে রাম মন্দির চত্বর এখন এক গভীর অস্বস্তির আবহে ঘেরা।

