উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: পুণের (Pune Homicide Case) লোহাগড় দুর্গের খাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে হবু স্বামীকে খুনের ঘটনায় শিউরে উঠেছে গোটা দেশ। বছর কুড়ির তরুণী সিয়া গোয়েল এবং তাঁর প্রেমিকের নিখুঁত খুনের ছক পুলিশের জেরায় সামনে আসতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এবার মুখ খুললেন জনপ্রিয় গায়ক ও সুরকার অমল মালিক (Amaal Mallik)। নারী সুরক্ষা আইনের অপব্যবহার এবং আজকের প্রজন্মের সম্পর্কের ভঙ্গুরতা নিয়ে তিনি এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করেছেন এক দীর্ঘ বার্তা।
WHY 💔 pic.twitter.com/9vM7lTC9po
— Amaal Mallik (@AmaalMallik) June 29, 2026
কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলার (Ketan Agarwal Homicide Case) প্রসঙ্গ টেনে অমল নারীদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, “নারীদের সুরক্ষার জন্য যে শক্তিশালী আইন রয়েছে, তা যেন কোনোভাবেই প্রকৃত দোষীকে আড়াল না করে। আইনকে অপব্যবহার করে বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করা উচিত নয়।” তিনি স্বীকার করেছেন যে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরা দীর্ঘকাল ধরে নির্যাতিত, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে সেই ক্ষোভ যেন এমন কোনো মানুষের ওপর না পড়ে যিনি সম্মান দিতে জানেন।
অমল তাঁর বার্তায় আজকের সম্পর্কের ‘টক্সিক’ বা বিষাক্ত দিকগুলো নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। তাঁর মতে, “সবকিছুকেই টক্সিক বলে দাগিয়ে দেওয়া এবং নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে চলাই আজকের ফ্যাশন। শারীরিক নির্যাতন যে পক্ষ থেকেই হোক তা যেমন টক্সিক, তেমনই আবেগের বদলে অর্থের পেছনে ছোটা, বা শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখানোর জন্য বিয়ে করাও সমানভাবে টক্সিক।” তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, আজকের প্রজন্ম কি সত্যিকারের দাম্পত্য চায়, নাকি কেবল ইনস্টাগ্রামের জন্য বিয়ে করতে চায়? কেতন আগরওয়ালের মতো একজন সরল মানুষকে কেন এমন পরিণতি ভোগ করতে হলো, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
পরিকল্পিত এই খুন প্রসঙ্গে অমল বলেন, যদি সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিলই, তবে তার সাহস দেখিয়ে অন্য কাউকে ভালোবাসার কথা জানানো যেত। কিন্তু একজন শিক্ষিত ও স্বনির্ভর নারী হয়ে এমন পরিকল্পিত অপরাধ কেবল দুর্বল মানসিকতার পরিচয়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ভারতের আইন নারীদের সুরক্ষায় পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী, কিন্তু সেই আইনের অপব্যবহার করে একটি জীবন কেড়ে নেওয়া এবং দুটি পরিবারকে চুরমার করে দেওয়া কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
অমল মালিকের এই বার্তা সামাজিক মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একদিকে যখন নারীদের অধিকার নিয়ে সরব সব মহল, তখন আইনের অপব্যবহার নিয়ে তাঁর এই কড়া অবস্থান কি আদৌ কোনো পরিবর্তন আনবে, নাকি এই ইস্যু কেবল সোশ্যাল মিডিয়ার বিতর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে—তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।

