কালিম্পং: বর্ষা মরশুমের আগে সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং কালিম্পং জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে কালিম্পং (Kalimpong) ট্রেজারি হলে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক ও পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। শুক্রবারের এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা (MP Raju Bista)। বৈঠক থেকে জেলার বেহাল পরিকাঠামো এবং ঢিমেতালে চলা সরকারি কাজ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রশাসন ও ঠিকাদারদের কড়া বার্তা দেন সাংসদ।
এদিনের বৈঠকে জেলার দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত আগাম প্রস্তুতি, রাস্তা ও সেতুর হাল, পানীয় জল, বিদ্যুৎ পরিষেবা সহ একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বর্ষাকালে যাতে পাহাড়ে সাধারণ মানুষকে কোনো রকম বিপর্যয় ও সমস্যার মুখে পড়তে না হয়, সেই লক্ষ্যে প্রশাসনকে এখন থেকেই কোমর বেঁধে নামার নির্দেশ দেন রাজু বিস্তা।
পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের একাধিক জনকল্যাণমূলক কাজ অসমাপ্ত পড়ে থাকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন সাংসদ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে চরম বিলম্বের জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের তীব্র ভর্ৎসনা করেন তিনি। বৈঠকে সাংসদ স্পষ্ট জানান, কাজে গাফিলতির অভিযোগে সান্তোষ ভুজেলের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে পাহাড়ের প্রায় ৩০ জন ঠিকাদারকে আগামী তিন মাসের মধ্যে তাঁদের অসমাপ্ত কাজ সম্পূর্ণ করার কড়া নির্দেশ বা আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
সাংসদ রাজু বিস্তা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্ধারিত কাজ শেষ না হলে ওই ৩০ জন ঠিকাদারের বিরুদ্ধেও এফআইআর সহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” দুর্যোগ মোকাবিলা হোক বা উন্নয়নমূলক কাজ— পাহাড়ের মানুষের স্বার্থে কোনো ক্ষেত্রেই গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। এখন দেখার, সাংসদের এই কড়া বার্তার পর আগামী তিন মাসে কালিম্পংয়ের থমকে থাকা প্রকল্পগুলির কাজ কতটা গতি পায়।
