উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ অভিনেতা রাজপাল যাদবের (Rajpal Yadav) বিরুদ্ধে প্রায় ৯ কোটি টাকার ঋণ সংক্রান্ত চেক বাউন্স মামলাকে ঘিরে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে এই কঠিন সময় তাঁর কয়েক দশকের অভিনয়জীবন কিংবা শিল্পের প্রতি দায়বদ্ধতাকে কোনওভাবেই মুছে দিতে পারে না—এমনই বার্তা দিয়েছেন অভিনেতা।
এক সাক্ষাৎকারে রাজপাল বলেন, তাঁর জীবন ও কর্মজীবনকে শুধুমাত্র বর্তমান আর্থিক সমস্যার নিরিখে বিচার করা উচিত নয়। গ্রাম থেকে শুরু করে ভারতীয় সিনেমা ও থিয়েটারের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে তিনি যে জায়গায় পৌঁছেছেন, সেটিই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
রাজপালের কথায়, গত ৩০-৪০ বছরে বহু মানুষের কাছে তাঁর আর্থিক দায় থাকতে পারে। কিন্তু তাঁর দাবি, সেই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে একজন শিল্পীর সম্পূর্ণ পরিচয় বা জীবনের মূল্যায়ন করা ঠিক নয়।
নিজের শিল্পীসত্তা নিয়ে যথেষ্ট দৃঢ় রাজপাল। তিনি জানান, বিপুল অর্থের বিনিময়েও তাঁকে কেনা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, ৫ কোটি, ১০ কোটি, এমনকী ১০০ বা ২৫০ কোটি টাকাও তাঁর কাছে শিল্পের চেয়ে বড় নয়। অভিনেতার বক্তব্য, ছোটবেলা থেকেই তিনি শিল্পের কাছে নিজেকে সমর্পণ করেছেন। তাই অর্থ তাঁর কাছে অভিনয়ের মূল প্রেরণা নয়। জীবনের ওঠাপড়ার মধ্যেও সিনেমা ও থিয়েটারের প্রতি তাঁর ভালোবাসাই তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
আইনি ও আর্থিক সমস্যার মধ্যেও দর্শকদের ভালোবাসাই যে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি, সেটিও স্পষ্ট করেছেন রাজপাল। তিনি বলেন, আজও বিমানবন্দরে গেলে প্রচুর মানুষ তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে চান—“প্রতিটি বিমানবন্দরে ৫০০টি সেলফি” তোলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এই প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, একজন শিল্পীর জীবনে জনপ্রিয়তা বা দর্শকের ভালোবাসা কোনও সাময়িক সমস্যার কারণে মুছে যায় না।
রাজপাল যাদব আরও বলেন, অভিনয় তাঁর কাছে শুধুমাত্র পেশা নয়; এটি তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। থিয়েটার (Theatre) থেকে সিনেমা (Bollywood)—দীর্ঘ যাত্রাপথে তিনি যে কাজ করেছেন, তার সম্পূর্ণ ছবি দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে চান। ২০০০ থেকে ২০২৬—ভারতীয় সিনেমা ও থিয়েটারে তাঁর কাজের যে দীর্ঘ অধ্যায়, সেটিকেই নিজের পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন অভিনেতা। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বর্তমানের কঠিন পরিস্থিতি তাঁকে তাঁর স্বপ্ন বা শিল্পের প্রতি বিশ্বাস থেকে সরিয়ে দিতে পারেনি।
আইনি জটিলতা ও আর্থিক চাপের মধ্যেও তাই রাজপালের বার্তা একটাই—একজন শিল্পীর পুরো জীবনকে তাঁর একটি কঠিন সময় দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। তাঁর কাছে সিনেমা, থিয়েটার এবং অভিনয়ের প্রতি দায়বদ্ধতাই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পরিচয়।

