বেলাকোবা: খোদ ব্লকের প্রশাসনিক প্রধানের নামেই খুনের অভিযোগ। আদালতের নির্দেশে জারি হয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। অথচ কয়েকদিন অতিক্রান্ত হলেও এখনও পুলিশের জালে ধরা পড়েননি তিনি। এই পরিস্থিতিতে শনিবার রাজগঞ্জ বিডিও অফিসের সামনে ‘নিখোঁজ’ পোস্টার হাতে অভিনব বিক্ষোভ দেখালেন এসএফআই (SFI) সদস্যরা। তাঁদের প্রশ্ন, অভিযুক্ত বিডিও (Rajganj BDO lacking) কোথায়? সাধারণ মানুষ বা ছাত্ররা আন্দোলন করলে পুলিশ অতিসক্রিয়তা দেখালেও একজন ফেরার আধিকারিককে ধরতে কেন এত অনীহা?
ঘটনার প্রেক্ষাপট: জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) জেলার রাজগঞ্জ (Rajganj) ব্লকের বিডিও-র বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে একটি খুনের মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি এই মামলায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। অথচ বিডিওর কোনো খোঁজ মিলছে না। অফিস সূত্রে খবর, গত চার-পাঁচ দিন ধরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত। মোবাইলও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ক্ষোভের আগুন জ্বলছে রাজগঞ্জে।
এসএফআই-এর অভিনব প্রতিবাদ: শনিবার বেলা বাড়তেই বিডিও অফিসের সামনে জমায়েত হন এসএফআই কর্মীরা। তাঁদের হাতে ছিল ছোট ছোট লিফলেট, যাতে বড় অক্ষরে লেখা— “রাজগঞ্জের বিডিও নিখোঁজ, সন্ধান চাই”। অফিস চত্বরে আসা মানুষজন থেকে শুরু করে পথচলতি টোটো ও বাইক আরোহীদের থামিয়ে তাঁরা এই লিফলেট বিলি করেন। পরে অফিসের প্রধান ফটকের দুই পাশে সেই লিফলেট সেঁটে দেওয়া হয়।
এসএফআই নেতা দিলদার মোহাম্মদ বলেন, “আদালতের নির্দেশে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পরও পুলিশ কেন চুপ? সাধারণ মানুষ সামান্য আন্দোলন করলে বা চাকরিপ্রার্থীরা নিজেদের দাবি জানালে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে লাঠি উঁচিয়ে আসে। অথচ একজন খুনে অভিযুক্ত প্রশাসনিক কর্তাকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ— এটা চরম ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই নয়।”
প্রশাসনিক স্তরে চাঞ্চল্য: বিডিও-র মতো উচ্চপদস্থ আধিকারিকের এভাবে ‘বেপাত্তা’ হয়ে যাওয়া এবং তাঁর নামে নিখোঁজ পোস্টার পড়ার ঘটনায় রাজগঞ্জজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রশাসনের শীর্ষ পদে থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এবং তাঁর ফেরারি হওয়া গোটা ব্যবস্থার ওপর প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিচ্ছে। পুলিশ এই বিষয়ে সরকারিভাবে মুখ না খুললেও বিডিও-র সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। আপাতত বিডিও-র অনুপস্থিতিতে ব্লকের জরুরি কাজকর্মেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এবিষয়ে অফিস কর্মী আনারুল হকের বক্তব্য, বিডিও আসছেন না। দুইজন জয়েন্ট বিডিও আছেন, তারাই কাজ সামলাচ্ছেন। অফিস কর্মী সবিতা দত্ত জানান, বিডিও সাহেব আসেননি। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি তিনি জানেন না বলে জানান।
