অভিজিৎ ঘোষ, আলিপুরদুয়ার: গত বছরের তুলনায় আগামী অর্থবর্ষে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের (Alipurduar) জন্য বরাদ্দ বাড়ল অনেকটাই। এছাড়াও পুরোনো যে কাজগুলো চলছে নতুন আর্থিক বছরে সেগুলো দ্রুত শেষ করার ভাবনা রয়েছে রেলের। অমৃত ভারত প্রকল্পে এই ডিভিশনে ১৫টি স্টেশন সংস্কারের কাজ চলছে। আগামী অর্থবর্ষে তার মধ্যে অন্তত ৮-৯টি স্টেশনের কাজ শেষ করতে চায় রেল।
গত অর্থবর্ষে এই ডিভিশনে বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে রেল ২৪৫ কোটি টাকা খরচ করেছে। আর আগামী অর্থবর্ষে সেই বরাদ্দ ধরা হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ, ৪৫৮ কোটি টাকা (Railway Price range)। কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের পর আলিপুরদুয়ার ডিভিশনে রেলের বিভিন্ন কাজ নিয়ে সোমবার সাংবাদিক সম্মেলন করেন ডিআরএম অমরজিৎ গৌতম। সেইসঙ্গে এদিন ভার্চুয়ালি একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণোও। রেলমন্ত্রী এরাজ্যে রেলের কাজের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। এরপরই আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন ডিআরএম। অমরজিৎ বলেন, ‘৪৫৮ কোটি টাকা খরচ করার জন্য আমাদের দেওয়া রয়েছে। সেই টাকা কীভাবে খরচ করা যায়, সেটা দেখা হচ্ছে।’
রেল সূত্রে খবর, ২০২০-’২১ অর্থবর্ষে ১২২ কোটি টাকা, ২০২১-’২২ অর্থবর্ষে ১২৮ কোটি টাকা, ২০২২-’২৩ অর্থবর্ষে ২৪১ কোটি টাকা খরচ করেছিল আলিপুরদুয়ার ডিভিশন। এই টাকা বিভিন্ন খাতে ব্যবহার করা হয়। ফুট ওভারব্রিজ তৈরি, সেতু তৈরি, প্ল্যাটফর্ম সংস্কারের মতো কাজ করা হয়। এবার বরাদ্দ করা টাকায় কী কী কাজ করা হবে, সেব্যাপারে এদিন স্পষ্ট করে বলতে পারেননি রেলকর্তারা। আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন।
আলিপুরদুয়ার ডিভিশনে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু স্টেশনে কাজ চলছে। চালসা, রাজভাতখাওয়া স্টেশনে ফুট ওভারব্রিজ তৈরি করা হবে বলে জানানো হয়েছে। মাদারিহাট, ক্যারন, চালসার মতো কয়েকটি স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম উঁচু করার কাজ হয়েছে। লো ও মিডিয়াম লেভেল প্ল্যাটফর্মকে হাই লেভেল করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে দুটো লিফট লাগানোর কাজ শেষ হয়েছে। চলতি বছরে ওই স্টেশনে আরও দুটো লিফট লাগানো হবে। কামাখ্যাগুড়ি ও নিউ আলিপুরদুয়ার স্টেশনেও দুটো করে লিফট লাগানো হবে। রাজাভাতখাওয়া, হ্যামিল্টনগঞ্জ, মুজনাই, বিন্নাগুড়ি, নাগরাকাটার মতো স্টেশনগুলোর প্ল্যাটফর্ম সাজানো হয়েছে।
এদিন রেলকর্তা জানিয়েছেন, আগামী অর্থবর্ষে বীরপাড়া ও কামাখ্যাগুড়িতে রেল ওভারব্রিজের (আরওবি) কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। এছাড়া ডলোমাইট লোডিং-আনলোডিংয়ের জন্য জোর দেওয়া হবে কালচিনি ও বিন্নাগুড়ি স্টেশনের ওপর।
এসব কাজের পাশাপাশি অমৃত ভারত প্রকল্পে স্টেশন সংস্কারের কাজ আরও দ্রুত করতে চাইছে রেল। এই প্রকল্পে এই ডিভিশনের স্টেশন সংস্কারের কাজ কতদিনের মধ্যে শেষ হবে? এই প্রশ্ন করলে ডিআরএম অমরজিৎ বলেন, ‘এক-একটি স্টেশনের কাজ এক-এক পর্যায় রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত সেগুলো শেষ করার। এবছর ৮-৯টি স্টেশনের কাজ শেষ হবে।’ রেল সূত্রে খবর, কামাখ্যাগুড়ি স্টেশনের কাজ আগামী দু’মাসের মধ্যে শেষ হতে পারে। দ্রুত শেষ হতে পারে গৌরীপুর স্টেশনের কাজও।
রেললাইনের পাশে হাতি চলে এলে যাতে নিকটবর্তী স্টেশনে খবর চলে যায়, সেজন্য রেললাইন বরাবর একটি সিস্টেম বসানোর কাজ করছে রেল। আগামী অর্থবর্ষে সেই সিস্টেম বসানো হবে দমনপুর থেকে শিলিগুড়ি অবধি। এছাড়া, জন বারলা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাকাকালীন আলিপুরদুয়ারে রেলের মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে তোলা নিয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই হাসপাতাল নিয়েও এদিন আলোচনা হয়েছে সাংবাদিক বৈঠকে। তাতে জানানো হয়েছে, রেল হাসপাতালের জন্য জমি দিতে রাজি। তবে পরিকাঠামো গড়ার দায় ঝেড়ে ফেলেছে।
