Railway initiatives | ডাবল ইঞ্জিনের গতিতে কি ঘুরবে চাকা? জট কাটিয়ে বাস্তবের পথে বাংলার আটকে থাকা রেলপ্রকল্প!

Railway initiatives | ডাবল ইঞ্জিনের গতিতে কি ঘুরবে চাকা? জট কাটিয়ে বাস্তবের পথে বাংলার আটকে থাকা রেলপ্রকল্প!

শিক্ষা
Spread the love


সানি সরকার, শিলিগুড়ি: ডাবল ইঞ্জিনের গতি। জমিজটের গেরো কাটিয়ে অবশেষে বাস্তবের মুখ দেখতে চলেছে রাজ্যের আটকে থাকা ৬৩টি রেলপ্রকল্পের (Railway initiatives) অধিকাংশ। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পও রয়েছে। তৃণমূল সরকারের জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে যা থমকে ছিল, বিজেপি (BJP) সরকারের আমলে সেই প্রকল্পগুলি এবার গতি পাচ্ছে। শুক্রবার রাজ্যসভায় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণো (Ashwini Vaishnaw) যে তথ্য পেশ করেছেন, তাতে ৪,৬৯৬ হেক্টর জমির ২৭ শতাংশ অধিগ্রহণ হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে। বাকি জমি পাওয়ার ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকারের তরফে রেলকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। রেলমন্ত্রীর এই তথ্যে স্পষ্ট, ডাবল ইঞ্জিন সরকারের হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গ তথা উত্তরবঙ্গের রেল পরিকাঠামোয় এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

জমিজটে আটকে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক রেলপ্রকল্প, এমন অভিযোগ একাধিকবার ধ্বনিত হয়েছে লোকসভা থেকে রাজ্যসভা, সংসদ ভবনে। কিন্তু শুক্রবার রাজ্যসভায় এক অন্য তথ্য পেশ করলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণো। রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের এক প্রশ্নোত্তরে রেলমন্ত্রী বৈষ্ণো এদিন জানান, চলতি বছরের ১ এপ্রিলের নিরিখে ট্র্যাক সংক্রান্ত ৬৩টি রেলপ্রকল্প রয়েছে বাংলায়। এর মধ্যে ৪৫টি ডাবল লাইন, ১৪টি নতুন লাইন এবং ৪টি গেজ পরিবর্তন। সব মিলিয়ে ৫,১৪৮ কিলোমিটার রেলপথের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৮৩,৪৩৩ কোটি টাকা। কিন্তু প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ৪,৬৯৬ হেক্টর জমি পাওয়া না যাওয়ায় আটকে থাকে প্রকল্পগুলি। তবে সম্প্রতি রাজ্য সরকারের তরফে রেল জমি পাচ্ছে বলেও এদিন নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন রেলমন্ত্রী। রাজ্যসভায় তাঁর পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে ১,২৭৩ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করে রেলের হাতে তুলে দিয়েছে। অর্থাৎ প্রকল্পগুলির জন্য প্রয়োজনীয় জমির ২৭ শতাংশ জমি রেল পেয়েছে। বাকি ৩,৪২৩ হেক্টর জমি রাজ্যের থেকে পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী রেলমন্ত্রী। রেলপথে বাংলার উন্নয়নে গতি দেখতে পাচ্ছেন সাংসদ ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, ‘রাজনীতি করতে গিয়ে তৃণমূল রেল প্রকল্পগুলি আটকে দিয়েছিল। ফলে রাজ্য যেমন পিছিয়ে পড়েছে, তেমনই তার মাশুল গুনতে হয়েছে রাজ্যবাসীকে।’

রেল সূত্রে খবর, রাজ্য সরকারের জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় গতি পাবে কালিয়াগঞ্জ-বুনিয়াদপুর (৩৩ কিলোমিটার নতুন লাইন, বরাদ্দ ১,১৪৭ কোটি টাকা), কাটিহার-কুমেদপুর এবং কাটিহার-মুকুরিয়া (৬৫ কিলোমিটার ডাবল লাইন, বরাদ্দ ৯৪৩ কোটি টাকা), নিউ জলপাইগুড়ি-আলুয়াবাড়ি রোড (৫৭ কিলোমিটার তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন, বরাদ্দ ১,৬৩০ কোটি টাকা), নিউ জলপাইগুড়ি-শিলিগুড়ি (৭ কিলোমিটার ডাবল লাইন, বরাদ্দ ২১৫ কোটি টাকা) সহ একাধিক প্রকল্প।

উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পরই রাজ্যে রেলপ্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের কথা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। জুন মাসের শুরুতে নবান্নে বাংলার প্রকল্পগুলি নিয়ে বৈঠক হয় তাঁর এবং রেলমন্ত্রীর। এর পরেই জমি অধিগ্রহণ ইস্যুতে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের নেতৃত্বে টাস্ক ফোর্স গঠন করে রাজ্য।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *