Raiganj | রায়গঞ্জে তৃণমূল যুব নেতাকে বহিষ্কার, বিজেপির সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ

Raiganj | রায়গঞ্জে তৃণমূল যুব নেতাকে বহিষ্কার, বিজেপির সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ

ভিডিও/VIDEO
Spread the love


দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ (Raiganj) ব্লক-২ তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সহ সভাপতি বারসেদ আলির বিরুদ্ধে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ এনে পদ ও দল থেকে বহিষ্কার করা হল। আগামীদিনে দলের কেউ যাতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ না রাখেন, তার সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে। বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে এমনটাই জানিয়েছেন রায়গঞ্জ ব্লক-২ তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি দীপঙ্কর বর্মন ও তৃণমূল যুব সভাপতি লোকেশ্বর বর্মন। পাশাপাশি এদিন যুব সহ সভাপতি পদে মনসুর আলিকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।

তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বারসেদ দলের যুব সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলেও বিজেপি সহ অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং দলের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছেন একাধিক জায়গায়। উপযুক্ত প্রমাণ পাওয়ার পরেই তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। ব্লক তৃণমূল সভাপতি দীপঙ্কর বর্মনের কথায়, ‘দলে থেকে দলের নিয়মশৃঙ্খলা মানব না, নেতাদের মানব না। বিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখব, এমন হতে পারে না। তাই সর্বসম্মতিতে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

রায়গঞ্জ ব্লকের শীতগ্রাম অঞ্চলের জনপ্রিয় যুবনেতা বারসেদ। পাশাপাশি, তাঁর দাদা এক্তেকার আলি ওই অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি। বারসেদ বলেন, ‘শীতগ্রাম অঞ্চল তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আমার মতভেদ হয়। আমি তাদের বলেছিলাম, নিজেরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ না করলে আগামীতে বিজেপি আবার লিড পেয়ে যাবে। আর এজন্যই দলবিরোধী তকমা লাগিয়ে আমাকে বহিষ্কার করেছে ব্লক নেতৃত্ব। অবশ্যই দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে জানাব।’ দলের গোষ্ঠীকোন্দলকে দায়ী করেছেন এজন্য। তিনি বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।

তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানহাইয়ালাল আগরওয়াল অবশ্য এই বহিষ্কারের ব্যাপারে কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।’ অন্যদিকে বিজেপির জেলা সভাপতি নিমাই কবিরাজ বলেন, ‘আমার সঙ্গে কেউ কোনওভাবে যোগাযোগ করেননি। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, কারণ বহু সংখ্যালঘু মানুষ আমাদের দলের হয়ে কাজ করছেন ও যোগাযোগ রাখছেন।’

এদিকে ব্লক যুব তৃণমূল সভাপতি লোকেশ্বর বর্মনের বক্তব্য, ‘বারসেদ তৃণমূলের পদাধিকারী হয়েও জোরগলায় বলছেন শীতগ্রাম অঞ্চলে এবার বিজেপি তিন হাজার ভোটে লিড পাবে। অথচ ওই অঞ্চল আমাদের দখলে। উনি আমাদের নেতৃত্বকে মানেন না। তাই উপযুক্ত প্রমাণ পেয়ে যাওয়ায় বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

এদিকে, বহিষ্কারকে ঘিরে রায়গঞ্জ ব্লক-২ অঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে গোষ্ঠীকোন্দল চরম আকার নেবে বলে মনে করছে বিরোধীরা। হেমতাবাদ (Hemtabad) বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত রায়গঞ্জ ব্লকের সাতটি অঞ্চলে তৃণমূল যে বিজেপি জুজু দেখতে শুরু করেছে, তা বলা যেতেই পারে। রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা মলয় সরকার বলেন, ‘নীচুতলার সংখ্যালঘু তৃণমূল নেতা ও কর্মীরা তাঁদের ব্লক নেতাদের উপর আর ভরসা রাখতে পারছেন না। অনেকেই যোগাযোগ রাখছেন। সংখ্যালঘু মানেই যে তৃণমূল নয়, তা এবারের ভোটে টের পাবেন নেতারা।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *