রায়গঞ্জ: এক ষাটোর্ধ্ব তৃণমূলকর্মীকে (TMC) মারধর করে তাঁর কান কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে (BJP)। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে রায়গঞ্জ ব্লকের (Raiganj) বিরঘই অঞ্চলের গোয়ালগাঁও গ্রামে। জখম তৃণমূলকর্মীর নাম ক্ষিতীশ বর্মন (৬০)। অভিযুক্ত বিজেপি কর্মীদের মধ্যে রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির একজন সদস্যও রয়েছেন বলে অভিযোগ।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে ওই তৃণমূলকর্মীর স্ত্রী সাবিত্রী রায় বর্মন সহ পরিবারের সদস্যরা নিমন্ত্রণ খেতে অন্য গ্রামে গিয়েছিলেন। এই সুযোগেই প্রতিবেশী তথা রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির বিজেপি সদস্য মহেশ্বর দেবশর্মা দলবল নিয়ে গিয়ে ক্ষিতীশবাবুকে মারধর করে ও কান কেটে নেয় বলে অভিযোগ। এরপর রাতে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফিরে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন তিনি। এরপর তড়িঘড়ি করে তাঁকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। পাশাপাশি ক্ষিতীশবাবুর স্ত্রী রায়গঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
পরিবার সূত্রের খবর, ক্ষিতীশ দীর্ঘদিন থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত। সেটাই মেনে নিতে পারছিলেন না মহেশ্বর। তাই সেদিন একা পেয়ে ক্ষিতীশের উপর আক্রমণ করেন। ক্ষিতীশের স্ত্রী সাবিত্রী রায় বর্মন বলেন, ‘কয়েকদিন আগে ভুট্টা ছাগল খেয়ে ফেলাকে কেন্দ্র করে মহেশ্বরের পরিবারের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল। পাশাপাশি ক্ষিতীশ দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল করেন বলে মহেশ্বরদের বরাবরই তাঁর প্রতি ক্ষোভ ছিল।’
এ প্রসঙ্গে রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের কর্মাধ্যক্ষ কৈলাসচন্দ্র বর্মন বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি হিসেবে এমন অমানবিক কাজ মেনে নেওয়া যায় না। কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’ যদিও রাজনৈতিক আক্রোশের কারণে আক্রমণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপি নেতা তথা রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা মলয় সরকার। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল মিথ্যা অভিযোগ করে বাজার গরম করার চেষ্টা করছে। পারিবারিক ঝামেলাকে রাজনৈতিক রূপ দিচ্ছে তৃণমূল।’ এদিকে, ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
