রায়গঞ্জ: একজন নার্সকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস করার অভিযোগে অভিযুক্ত নার্সিংহোমের মালিককে গ্রেপ্তার করল গোয়ালপোখর থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম শামসুর হক (৩৬), বাড়ি উত্তর দিনাজপুর জেলার গোয়ালপোখর থানার ঘোরোরা গ্রামে। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) আইনের একাধিক জামিন অযোগ্য ধারার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। শনিবার ধৃতকে রায়গঞ্জ (Raiganj) জেলা আদালতের অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট সেশন জাজ কোর্টে তোলা হলে বিচারক তার তিন দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা হয়ে গিয়েছে, নির্যাতিতা নার্সের বাড়ি আলিপুরদুয়ারে। কিশানগঞ্জের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের মেট্রন পদে কর্মরত ছিলেন তিনি। এরই মাঝে দীর্ঘ দুই বছর যাবৎ ওই নার্সিংহোমের মালিকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাঁর। কিশানগঞ্জে ওই নার্সিংহোমের মালিক ও ওই নার্স একসঙ্গেই থাকতেন। সম্প্রতি শামসুর হক বিয়েতে রাজি না হওয়ায় যাবতীয় গন্ডগোলের সূত্রপাত।
গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার এই বিষয়ে গোয়ালপোখর (Goalpokhar) থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই নার্স। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত নার্সিংহোমের মালিককে গ্রেপ্তার করে গোয়ালপোখর থানার পুলিশ। রায়গঞ্জ জেলা আদালতের সরকারি আইনজীবী মনোতোষ সরকার বলেন, “ধৃতের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। বিচারক তদন্তের স্বার্থে তিন দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।”
এই প্রসঙ্গে অভিযোগকারী নার্সের বক্তব্য, “বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমার সঙ্গে সহবাস করেছে। পরপর দুটি গর্ভস্থ ভ্রূণ নষ্ট করেছে। তার প্রমান রয়েছে। আমি অভিযুক্ত নার্সিংহোমের মালিকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।” গোয়ালপোখর থানার আইসি পিনাকী সরকার বলেন, “গতকাল রাতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার আদালতে পেশ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।”

