বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: বন্ধুকে ভিনরাজ্যে কাজ দেওয়ার নাম করে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত তরুণকে বেধড়ক মারধর দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন ক্ষিপ্ত গ্রামের বাসিন্দারা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় রায়গঞ্জ (Raiganj) থানার বড়ুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তাহেরপুর গ্রামে। রায়গঞ্জ থানার বড়ুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের রাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ধৃত হোসেন আলির বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এদিনই ধৃতকে রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে বিচারক তিনদিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন। হেপাজতে নেওয়ার পর হোসেনকে জেরা শুরু করে নিখোঁজ মনোজ বিশ্বাসের খোঁজ পেতে চাইছে পুলিশ।
নিখোঁজ মনোজের খোঁজ না পেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁর বাবা নবদ্বীপ বিশ্বাস। করেছিলেন নিখোঁজ সংক্রান্ত ডায়েরি। এদিন সকালে প্রতিবেশী মারফত তিনি জানতে পারেন, তাঁর ছেলেকে ভিনরাজ্যে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দিয়েছেন হোসেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে জেরা এবং পরবর্তীতে হোসেনকে মারধর করেন গ্রামবাসীরা। ঘটনার খবর পেয়ে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ বড়ুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তাহেরপুরে পৌঁছে অভিযুক্ত তরুণকে গ্রেপ্তার করে। নিখোঁজ তরুণের বাবা নবদ্বীপ রায়গঞ্জ থানায় হোসেনের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর বক্তব্য, ‘দিনকয়েক আগে ছেলে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়।
রায়গঞ্জ থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করি। এদিন সকালে জানতে পারি আমার ছেলেকে হোসেন আলি কাজের প্রলোভন দিয়ে ভিনরাজ্যে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে এসেছে। আমি চাই নিখোঁজ ছেলেকে খুঁজে দেওয়ার ব্যবস্থা করুক পুলিশ।’ রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অ্যাসিস্ট্যান্ট পাবলিক প্রসিকিউটর নীলাদ্রি সরকার বলেন, ‘ধৃতের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ। বিচারক তদন্তের স্বার্থে পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।’ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগেও দুষ্কৃতীমূলক কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন হোসেন। ধৃতের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই সহ একাধিক মামলা রয়েছে। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রক্তের দালালি, চিকিৎসা করাতে আসা রোগীর পরিজনদের পকেট থেকে টাকা চুরি, মেডিকেল কলেজের লিফটে হাত সাফাইয়ের অভিযোগে ধরাও পড়েছেন হোসেন।
ভিনরাজ্যের কোন চক্রের সঙ্গে হোসেন যুক্ত, তাঁকে জেরা করে পুলিশ তা জানতে চাইছে। পাশাপাশি, উদ্ধার করতে চাইছে নিখোঁজ মনোজকে। মনোজকে কোনও নির্মাণ সংস্থার কাছে হোসেন বিক্রি করে দিতে পারেন বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।
