রায়গঞ্জ: চিকিৎসকের অস্পষ্ট হাতের লেখার (Docs Handwriting) খেসারত দিতে হলো এক রোগীকে। প্রেসক্রিপশনের ভাষা বুঝতে না পেরে ওষুধের দোকান থেকে ভুল ওষুধ দেওয়ার জেরে প্রাণ হারালেন এক ব্যক্তি (Medical Negligence)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (Raiganj Medical School) নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ রক্ষা হয়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন হাসপাতালের এমএসভিপি প্রিয়ঙ্কর রায়। আজ, শুক্রবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে দেহ পরিজনদের হাতে তুলে দেয় রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম বীরেন নুনিয়া (২৯), বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হরিরামপুর থানার শশা এলাকায়। মৃতের ভাইপো তাপস কুমার শীল জানান, দুদিন আগে হরিরামপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক চিকিৎসক প্রেসক্রিপশনে খিঁচুনির ওষুধ ‘ডিউডিল’ (Duodil) লিখেছিলেন। কিন্তু হাতের লেখা স্পষ্ট না হওয়ায় ওষুধের দোকানদার ভুলবশত তাঁকে ডায়াবেটিসের ওষুধ ‘ডাওনিল’ (Daonil) দিয়ে দেন। সেই ওষুধ খেয়েই মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন বীরেনবাবু।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশন লেখার ধরন নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। রায়গঞ্জের বাসিন্দা পুলক ঘোষ জানান, ডাক্তারের হাতের লেখা পাড়ার দোকানদার পড়তে পারবে না, এই ভয়ে অনেকেই চেম্বার সংলগ্ন দোকান থেকে ওষুধ কেনেন।
এই প্রসঙ্গে প্রবীণ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ অরবিন্দ রায় বলেন, “রোগীর সুরক্ষার কথা ভেবে চিকিৎসকদের সবসময় প্রেসক্রিপশনে ‘ক্যাপিটাল লেটারে’ ওষুধের নাম লিখতে হবে। একই সঙ্গে উল্লেখ করতে হবে জেনেরিক নাম।” বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সম্পূর্ণ ডিজিটাল বা কম্পিউটারাইজড প্রেসক্রিপশন চালু হলেই এই ধরণের মারাত্মক ভুল এড়ানো সম্ভব।
