রায়গঞ্জ: চাকরির টোপ দিয়ে কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগে তোলপাড় রায়গঞ্জ (Raiganj)। এক হাইস্কুল শিক্ষক ও স্কুলের ক্লার্ক সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে প্রতারণার (Corruption) অভিযোগ দায়ের হয়েছে রায়গঞ্জ থানায়। রবিবার বিকেলে অভিযোগকারীদের তীর-ধনুক নিয়ে থানায় আসার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়।
অভিযোগ, শতাধিক যুবক-যুবতীকে প্রাথমিক শিক্ষক সহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির লোভ দেখিয়ে প্রায় ১ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন অভিযুক্তরা। অভিযোগকারীদের দাবি, এই প্রতারণার অঙ্ক ২ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন:
- সোমনাথ মুর্মু: কাশিবাটি স্কুলের সহকারী শিক্ষক।
- সনাতন মুর্মু: রায়গঞ্জ মোহনবাটি স্কুলের ক্লার্ক।
- জাফরিল হেমব্রম, জামিন মুর্মু ও লক্ষণ হাসদা।
মূল অভিযোগকারী বিকাশ মুর্মু জানান, , “আমি ২০১৬ সালে ১০ লক্ষ ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা দিয়েছিলাম প্রাথমিকে চাকরির (Job) জন্য। এইরকম প্রায় ১০০ জন যুবক-যুবতী চাকরির জন্য টাকা দিয়েছিল। দুই একজনের চাকরি হলেও আমাদের চাকরি না হওয়ায় বারংবার অভিযুক্তদের দারস্থ হলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। অভিযুক্তরা তৃণমূলের প্রভাবশালী বলে পুলিশও তেমন গুরুত্ব দেয়নি। সরকার বদল হয়েছে। সেই কারণেই রায়গঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার সাহস পেলাম। আমার সঙ্গে ২০ জন প্রতারিত যুবক সামিল হয়েছেন।”
রবিবার বিকেলে প্রায় ৫০ জন ভুক্তভোগী হাতে তীর-ধনুক নিয়ে থানায় হাজির হন। উত্তেজনা বাড়লে পুলিশ দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেয়। রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ডাঃ সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ জানিয়েছেন, “একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজে জোর তল্লাশি চলছে।” রায়গঞ্জ থানার আইসি সুমন কল্যাণ দে সরকার জানিয়েছেন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা আইনের নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। এখন পুলিশের নিরপেক্ষ তদন্তে আসল মাস্টারমাইন্ডের নাম উঠে আসে কি না, সেটাই দেখার বিষয়।

