রাজধানী ঢাকার রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি)-এর সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান-সহ ৩ জনকে রবিবার মৃত্যুদণ্ডে দিল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মহম্মদ গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিকের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করে। রায়ে হাবিবুর রহমান ছাড়াও রামপুরা জোনের এডিসি রাশেদুল ইসলাম ও ওসি মশিউর রহমানকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এসআই তরিকুল ইসলামকে যাবজ্জীবন ও এএসআই চঞ্চলচন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান-সহ চার অভিযুক্ত পলাতক। তারা হলেন- খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক এডিসি রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমান ও সাবেক
এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। এই মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার হওয়া আসামি পুলিশের সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। এদিন সকালে তাঁকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করানো হয়।
আরও পড়ুন:
এই বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘একজন মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে জীবন বাঁচাতে নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে ছিল। তারা সেই অবস্থায় তাঁকে নির্মমভাবে গুলি করেছিল। আসামি নিজে স্বীকার করেছেন তিনি গুলি করেছেন। আমরা আসামিদের অপরাধের যাবতীয় তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেছি। তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছি।’
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে রামপুরায় হোটেলে কাজ শেষে বাসায় ফিরছিলেন আমির হোসেন। বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের দুই পাশে পুলিশ-বিজিবির গাড়ি দেখে ভয়ে প্রাণ বাঁচাতে পাশে থাকা একটি নির্মাণাধীন চারতলা ভবনের ছাদে ওঠেন তিনি। ওই সময় পুলিশও তাঁর পিছু নেয়। এক পর্যায়ে জীবন বাঁচাতে ওই নির্মাণাধীন ভবনটির ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকেন আমির। কিন্তু তাঁকে দেখে ফেলে পুলিশ তাঁর ওপর গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ। এতে তিনতলায় পড়ে গেলে তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন উদ্ধার করেন। এরপর বনশ্রীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওইদিন রাতে তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসকরা। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেন ভুক্তভোগী এই তরুণ। পরে মৃত্যু হয় তাঁর।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এটি নিয়ে পঞ্চম মামলার রায় হল। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, এই মামলায় তারা ১৩ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে। ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে গত ৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে প্রসিকিউশন। একই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৩ অক্টোবর। আর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি। এই মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হয় গত ৩ ফেব্রুয়ারি। তার পর থেকে মামলাটি রায়ের অপেক্ষায় ছিল। এই মামলার রায় গত ৪ মার্চ ঘোষণার জন্য তারিখ ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। তবে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন রায় ঘোষণা করা হয়নি। পরে গত ১৫ জুন এই মামলার রায় ঘোষণার জন্য নতুন দিন (আজ) ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। সেই অনুযায়ী আজ রায় ঘোষণা হলো।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
