রায়গঞ্জ: অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের (Annapurna Yojana) সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগে সরব হলেন রায়গঞ্জ (Raiganj) শহরের শতাধিক উপভোক্তা। বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জ পুরসভায় প্রকল্পটির তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম এবং স্বচ্ছল ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ তুলে মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।
উপভোক্তাদের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু:
বিক্ষোভকারী মহিলাদের অভিযোগ, প্রকৃত অভাবী মানুষরা বঞ্চিত হলেও, প্রভাবশালী ও নিয়মিত করদাতাদের নাম তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
- যাচাই-বাছাইহীন তালিকা: উপভোক্তাদের দাবি, সরকারি দপ্তরে সমস্ত নথি জমা দিয়ে দু’মাস আগে আবেদন করা সত্ত্বেও তাঁদের নাম তালিকায় নেই। উল্টোদিকে, পরে আবেদন করা অনেক স্বচ্ছল পরিবারের সদস্য ইতিমধ্যেই ৩,০০০ টাকা করে অনুদান পেয়েছেন।
- বঞ্চিতের আক্ষেপ: ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রিনা চক্রবর্তী জানান, ভাড়া বাড়িতে থেকেও তিনি সুবিধা পাচ্ছেন না। ২৩ নং ওয়ার্ডের পূজা ঘোষ ও অশোকপল্লীর রিঙ্কি দাসের অভিযোগ, “যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই তালিকা তৈরি হয়েছে। করদাতা ও সরকারি কর্মীদের নাম রয়েছে তালিকায়, কিন্তু আমাদের মতো দুঃস্থদের নাম নেই।”
এদিন পুর প্রশাসকের দপ্তরে বিক্ষোভ চলাকালীন তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত থাকলেও, তিনি সরাসরি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দেখা করেননি। পরে কর্নজোড়া যাওয়ার পথে গাড়িতে ওঠার সময় মহিলারা তাঁকে তাঁদের অভিযোগ জানান। মহকুমা শাসক তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বিক্ষোভের কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “কেউ বিক্ষোভ দেখাননি। কেন তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি তা জানতে এসেছিলেন। যারা এখনও প্রকল্পের সুবিধা পাননি, তাঁদের একটি তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছে। তালিকা পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মহকুমা শাসকের আশ্বাসের পরও উপভোক্তারা কর্নজোড়ায় মহকুমা শাসকের দপ্তর এবং সমাজকল্যাণ বিভাগে দৌড়াদৌড়ি করেন। তবে কোথাও কোনো সদুত্তর না মেলায় দিনভর প্রশাসনিক দ্বারে ঘুরে হতাশ হয়েই ফিরতে হয়েছে তাঁদের। সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে এই ঘটনা রায়গঞ্জে বড়সড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

