বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: এবার অস্ত্র আইনে গ্রেপ্তার রায়গঞ্জ (Raiganj) শহরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর অভিজিৎ সাহা ওরফে বাপি (Bapi)। তার বাড়ি রায়গঞ্জ শহরের দেবীনগর এলাকায়। ধৃতের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
সোমবার ধৃতকে রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন। রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সরকারি আইনজীবী নীলাদ্রি সরকার বলেন, “ধৃতের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলার রুজু করেছে পুলিশ। বিচারক তার ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।”
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর তৃণমূলের (TMC) যুব সহসভাপতি নব্যেন্দু ঘোষ গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হন এক পিকনিকের আসরে। ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছান তৃণমূলের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের যুব সভাপতি প্রসেনজিৎ রায় ওরফে চ্যাপেল সহ তার বন্ধুরা। সেই সময় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি রন্তু দাস, ২২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর তপন দাসের ছেলে সানকিং দাস এবং ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর অভিজিৎ সাহা ওরফে বাপি হাসপাতাল চত্বরে এসে চ্যাপেল সহ তার বন্ধুদের পিস্তলের বাঁট দিয়ে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে। সেই ঘটনায় রায়গঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হলেও পুলিশ অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রে এও জানা গিয়েছে যে, তৎকালীন আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার অভিযোগ পত্রটিকে এফআইআর না করে জিডি করে রেখে দেন। এর পাশাপাশি তিনি বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন অভিযোগকারী প্রসেনজিৎ সাহাকে। এই প্রসঙ্গে প্রসেনজিৎ সাহা বলেন, “নববর্ষের রাতে আমার বন্ধু দুষ্কৃতীদের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হয়। তাকে দেখতে গেলে আমাকে ও আমার বন্ধুদের পিস্তলের বাট দিয়ে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেয়। সেই সময় রন্তু সহ ৩ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ কোন পদক্ষেপ নেয়নি। গতকাল ফের রায়গঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত তৃণমূলের তিন নেতার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করে পুলিশ।”
যদিও তৃণমূল নেতা রন্তু দাস ও সানকিং দাস বর্তমানে পলাতক বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ডাঃ সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ বলেন, “অভিযুক্ত অভিজিৎ সাহা ওরফে বাপির বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।”
