উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: তৃণমূলের (TMC) অন্দরে বিভাজন এখন আর গোপন কোনো বিষয় নয়। এবার সেই পরিবর্তনের হাওয়ায় গা ভাসালেন উত্তরবঙ্গের পোড় খাওয়া নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ (Rabindranath Ghosh)। দীর্ঘ ২২ বছর জেলা তৃণমূলের সভাপতিত্ব সামলানো এই নেতা সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আইপ্যাকের বিরুদ্ধে তোপ দেগে নাম লিখিয়েছেন ঋতব্রতপন্থী শিবিরে।
রবীন্দ্রনাথ ঘোষের এই ‘দলবদল’ রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। তাঁর মতে, তৃণমূল একটাই, কিন্তু বর্তমানে দলের নিয়ন্ত্রণ অন্য হাতে চলে গেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার অভাবকে হাতিয়ার করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তৃণমূলের বর্তমান শোচনীয় অবস্থার জন্য মূলত আইপ্যাক এবং অভিষেক-ঘনিষ্ঠদের নীতিই দায়ী।
দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে রবীন্দ্রনাথ বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) হাতে কি সত্যিই ক্ষমতা আছে? নাকি তা কুক্ষিগত হয়ে গেছে? অযোগ্যদের হাতে দায়িত্ব দেওয়ায় সাধারণ কর্মীরা আজ নির্যাতনের মুখে। তাঁর অভিযোগ, ২০১১ বা ২০১৬ সালে যখন দল শক্তিশালী ছিল, তখন আইপ্যাকের মতো বহিরাগত সংস্থার প্রয়োজন হয়নি। এখনকার ‘বাচ্চা ছেলেগুলো’ দলের প্রবীণ নেতাদের নির্দেশ দিচ্ছে, যা মেনে নেওয়া কঠিন।
দল বদলালেও নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধা অটুট রেখেছেন এই বর্ষীয়ান নেতা। তিনি মনে করেন, যদি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তবে বহু পুরোনো সৈনিক ফের দিদির ছায়াতলে ফিরে আসবে। শিলিগুড়ি থেকে কোচবিহার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের তৃণমূলের বহু নেতা ও বিধায়ক এখন এককাট্টা হয়ে কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করেছেন। তাঁর এই পদক্ষেপকে তিনি ‘কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর নৈতিক সিদ্ধান্ত’ হিসেবেই দেখছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রবীন্দ্রনাথ ঘোষের মতো একজন হেভিওয়েট নেতার এই বিদ্রোহ কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের উত্তরবঙ্গ সংগঠনকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। একদিকে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ এবং অন্যদিকে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’—এই দুই মেরুতে বিভক্ত দল আগামী দিনে পঞ্চায়েত বা পরবর্তী নির্বাচনের ময়দানে নিজেদের ক্ষমতা কীভাবে প্রদর্শন করে, এখন সেটাই দেখার।

