নীতেশ বর্মন, শিলিগুড়ি: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসন নিয়ে বিজেপি (BJP North Bengal Election Technique) বিশেষ রণকৌশল নিয়েছে। উত্তরবঙ্গের আসনগুলোকে তিনটি পৃথক ‘গ্রেড’ বা শ্রেণিতে ভাগ করে তারা লড়াইয়ের ময়দানে নামছে। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, জয়ের সম্ভাবনা ও সাংগঠনিক শক্তির ওপর ভিত্তি করে আসনগুলোকে ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘সি’—এই তিন ক্যাটিগোরিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে। নেতৃত্বের লক্ষ্য, এই বিভাজনের মাধ্যমে প্রতিটি আসনের গুরুত্ব বুঝে প্রয়োজনীয় শক্তি ও সম্পদ নিয়োগ। উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনের মধ্যে ২৬টিকে ‘এ’ গ্রেডে রাখা হয়েছে। এই আসনগুলোতে ১০০ ভাগ জয়ের লক্ষ্য দল স্থির করেছে। এ বিষয়ে বিজেপির (BJP) রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামীর বক্তব্য, ‘ক্যাটিগোরিতে ভাগ করলে আসনগুলিতে কতটা পরিশ্রম করতে হবে সে বিষয়ে আগাম ধারণা থাকে। এতে লড়াইয়ের সুবিধা হয়।’
দলীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘এ’ বিভাগের আসনগুলোতে বরাদ্দের পরিমাণ যেমন বেশি হবে, তেমনই হেভিওয়েট নেতাদের জনসভা ও মিছিলের সংখ্যাও বাড়ানো হবে। এর পরের ধাপে থাকা ‘বি’ গ্রেডে ১৬টির বেশি আসন রাখা হয়েছে। এই আসনগুলোকে জয়ের সম্ভাবনার তালিকায় রাখা হলেও সেখানে ‘এ’ গ্রেডের তুলনায় আর্থিক বরাদ্দ ও প্রচারের তীব্রতা কিছুটা কম থাকতে পারে। তবে সামান্য বাড়তি লড়াই করলেই এখান থেকে ফল নিজেদের পক্ষে আনা সম্ভব বলে নেতৃত্ব মনে করছে।
অন্যদিকে, বাকি ১২টি আসন ‘সি’ ক্যাটিগোরিতে রাখা হয়েছে। এই আসনগুলোতে দলের সাংগঠনিক অবস্থান তুলনামূলক কঠিন। তাই এখানকার জয়পরাজয় ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।
ভৌগোলিক ও পূর্ববর্তী ফলাফলের নিরিখে দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিধানসভা আসনগুলো বরাবরই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই জেলার আসনগুলোতে বিজেপি অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। তাই মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বা শিলিগুড়ির মতো আসনগুলো অবলীলায় ‘এ’ গ্রেডে স্থান পেয়েছে। বিপরীতে, গত কয়েকটি নির্বাচনে চোপড়া আসনে বিজেপি পিছিয়ে থাকায় সেটিকে ‘সি’ ক্যাটিগোরিতে রাখা হয়েছে। তবে নেতৃত্ব হাল ছাড়তে নারাজ।
বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি দীপক বর্মন বলেন, ‘চোপড়াকে আমরা সি ক্যাটিগোরিতে রাখলেও লড়াই করব। তাতে শেষমুহূর্তে দলের জয় আসতেও পারে।’ আবার ২০১৯ এবং ২০২১ সালে জিতলেও ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে শীতলকুচি ও নাটাবাড়ির মতো আসনে বিজেপি কিছুটা পিছিয়ে পড়ায় সেগুলোকে ‘বি’ গ্রেডে রাখা হয়েছে।
বিজেপির এই অভ্যন্তরীণ সমীকরণের বাইরেও কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের প্রত্যাশা বেশ তুঙ্গে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ আসনেই জয়ের আশা প্রকাশ করেছিলেন। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা বাগডোগরায় এসে সেই সুর আরও চড়িয়ে দাবি করেন, উত্তরবঙ্গের সব আসনেই দল জিততে পারে। যদিও নীচুতলার হিসেবে ‘সি’ ক্যাটিগোরির ১২টি আসনে জয়ের সম্ভাবনা আপাতত কম বলে মনে করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিজেপি বিধায়ক আনন্দময় বর্মন বলেন, ‘সি ক্যাটিগোরিতে থাকা মানে দল হারবে এমনটা নয়। তা দলের রণকৌশল। লড়াইয়ে দল জিততেই পারে।’
