Qazi Touqeer | প্রথম সপ্তাহেই ভাইজানের মন জিতলেন ‘রকস্টার’ কাজি, কুড়ি বছরের শূন্যস্থান পেরিয়ে কামব্যাকের গল্প

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ রূপোলি পর্দার দুনিয়াটা বড় অদ্ভুত। আজ যিনি সাফল্যের চূড়ায় দাঁড়িয়ে হাত নাড়ছেন, কাল তিনিই হয়তো হারিয়ে যাচ্ছেন গভীর অন্ধকারের অতলে। গ্ল্যামার দুনিয়ার এই নির্মম সত্যটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলেন একসময়ের দেশের ক্রেজ, সেই চকোলেট বয় গায়ক কাজি তৌকির (Qazi Touqeer)। মনে পড়ে সেই দিনগুলোর কথা? যখন একটা রিয়ালিটি শো (Actuality Present)-এর মঞ্চ কাঁপিয়ে রাতারাতি কোটি কোটি মানুষের ক্রাশ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তারপর? হঠাৎ করেই যেন সব আলো নিভে গেল। যে নামটা একসময় খবরের শিরোনামে ঝড় তুলত, সেই মানুষটাই হারিয়ে গেলেন হারিয়ে যাওয়ার মিছিলে। কিন্তু কুড়ি বছর পর সেই ছাইচাপা আগুনই ফের দাউদাউ করে জ্বলে উঠল একেবারে খাস টেলিভিশনের পর্দা কাঁপিয়ে—সোজা বিগ বসের ঘরে!

শুরুতে অবশ্য কালার্স চ্যানেলের এই নতুন মরসুমের কাস্ট বা প্রতিযোগী বাছাই নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় বেশ ভালোই ট্রোলের ঝড় বয়েছিল। দর্শকদের একাংশ নাক সিঁটকে বলেই দিয়েছিলেন, এ আবার কী ধরনের দলবল তুলে এনেছে নির্মাতারা! ঝিমিয়ে পড়া কাস্ট নিয়ে যখন চারদিকে নানা কথা চলছে, ঠিক তখনই গেমের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন সেই পুরোনো দিনের রকস্টার। প্রথম সপ্তাহের উইকেন্ড কা বাড়েই খোদ শো-এর সঞ্চালক সলমন খানের (Salman Khan) মুখে প্রশংসার পসরা সাজিয়ে বসলেন কাজি। ভাইজান নিজে দাঁড়িয়ে থেকে যা বললেন, তাতে শুধু ঘরবাসীর নয়, খাস শো-এর সেটের বাইরে থাকা কোটি কোটি দর্শকের চোখও কপালে উঠেছে।

শনিবার রাতে যখন প্রথমবার প্রতিযোগীদের মুখোমুখি হলেন ভাইজান, তখন মুড বেশ কড়া। কিন্তু কাজির নাম আসতেই সুর একেবারে বদলে গেল। ভাইজান সটান ঘোষণা করে দিলেন, এই ঘরের অন্দরে তারকার মেলা হয়তো অনেক বসেছে, কিন্তু আসল রকস্টার ওই একটাই—কাজি তৌকির। প্রথম সাত দিনে যেভাবে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে পারদ চড়িয়েছেন তিনি, তাতে মুগ্ধ খোদ সুপারস্টার।

এরপরই আসে সেই মুহূর্ত, যা নিয়ে এখন নেটপাড়ায় জোর চর্চা। প্রতিযোগীদের অ্যাক্টিভিটি এরিয়ায় ডেকে এনে কাজিকে মুখোমুখি বসিয়ে সলমন জানতে চান তাঁর জীবনের সেই না-বলা অধ্যায়। সোজা সাপ্টা প্রশ্ন, খুব কম বয়সে আকাশছোঁয়া সাফল্য পেয়েছিলে, বড় বড় শো করেছ, কিন্তু এই গত কুড়িটা বছর ঠিক কী করলে? কাজির সাবলীল জবাব, নিরন্তর লাইভ শোয়ের মধ্যে দিয়েই কেটেছে দিনগুলো। আর এখানেই কাজির পিঠ চাপড়ে দেন ভাইজান। জীবন যে সবসময় গোলাপ বিছানো হয় না, তা বোঝাতে গিয়ে টেনে আনেন হলিউডের জন ট্রাভোল্টা কিংবা খোদ বলিউডের ববি দেওলের মতো তারকাদের কঠিন সংগ্রামের উদাহরণ।

সলমন ঠিক পয়েন্টে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দেন, কেরিয়ারে খারাপ সময় আসতেই পারে, কিন্তু আসল লড়াইটা হলো সেই সময়েও নিজের ভেতরকার জেদটা বাঁচিয়ে রাখা। কাজি ঠিক সেটাই করেছেন। একসময় যার গানে মেতে থাকত দেশ, যাকে নিয়ে উন্মাদনার শেষ ছিল না, সময়ের ফেরে সেই মানুষটার কেরিয়ারে নেমে এসেছিল দীর্ঘ খরা। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। দিনের পর দিন অন্ধকারে থেকে ঘাম ঝরিয়েছেন, আর আজ বিগ বসের এই বড় প্ল্যাটফর্মে এসে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে মেধায় কোনওদিন মরচে ধরে না।

দর্শকরাও যেন ঠিক এই জিনিসটাই দেখতে চেয়েছিলেন। রিয়ালিটি শোয়ের কৃত্রিম নাটকের ভিড়ে কাজি তৌকিরের এই রিয়্যাল লাইফ স্ট্রাগল আর ঘুরে দাঁড়ানোর স্পৃহা রাতারাতি তাঁকে এনে দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতা। মানুষ এখন আর শুধু ঝগড়াঝাঁটি দেখতে চায় না, তারা দেখতে চায় এমন একজন মানুষের গল্প, যিনি মাটিতে মিশে যাওয়ার পরও মাথা তুলে দাঁড়াতে জানেন। প্রথম সপ্তাহের পারফরম্যান্সের সুবাদে কাজি এখন কেবল প্রতিযোগীদের ভিড়ে একজন প্রতিযোগী নন, বরং অনেক না-বলা গল্পের জীবন্ত প্রতীক। কুড়ি বছরের সেই লম্বা দূরত্ব পেরিয়ে এই কামব্যাক যে কাজির কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট হতে চলেছে, সে বিষয়ে আর কোনও সন্দেহের অবকাশই নেই।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *