বক্সিরহাট: ব্যালটের যুদ্ধ মিটেছে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে, কিন্তু কোচবিহারের তুফানগঞ্জ মহকুমায় হিংসার আগুন (Put up-poll violence in Tufanganj) নেভার কোনো লক্ষণ নেই। রবিবার সকালে তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের মহিষকুচি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের টাকোয়ামারি এলাকায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের বাড়িতে দলবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠল বিজেপির ‘বাইক বাহিনীর’ বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে যুব তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি আমিনুর মিয়ার বাড়িতে লাঠিসোটা নিয়ে চড়াও হয় একদল দুষ্কৃতী। বাড়ির সামনে থাকা চারচাকা গাড়ি ও জানালার কাচ ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়। আমিনুরের স্ত্রী আকসানা পারভীন জানান, ঘটনার সময় ঘরে তাঁর সদ্যোজাত কন্যাসন্তান ঘুমাচ্ছিল। আচমকা জানালার কাচ ভেঙে শিশুর বিছানায় এসে পড়ে। আতঙ্কিত আকসানা বলেন, “স্বামী তৃণমূল করে বলেই এই অত্যাচার। রাতে বোমাবাজি, দিনে ভাঙচুর। এভাবে কীভাবে বাঁচব?”
একই গ্রামের অন্য এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতেও সমান্তরাল তাণ্ডব চালানো হয়। উঠোনে থাকা গাড়ি ও মোটরবাইক ভাঙচুরের পাশাপাশি ঘরের ভেতরে ঢুকে ফ্রিজ, ওভেন, রান্নার হাঁড়ি পর্যন্ত ভেঙে ফেলা হয়। আক্রান্ত কর্মীর স্ত্রী তথা সিভিক ভলান্টিয়ার সাইমা খাতুনের অভিযোগ, বাধা দিতে গেলে বাড়ির মহিলাদের মারধর করা হয়, এমনকি তাঁদের ছোট মেয়েকেও চড় মারে দুষ্কৃতীরা। মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে এলাকাছাড়া তৃণমূল কর্মীরা এখন বাড়ি ফিরতে আতঙ্কিত।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি উজ্জ্বল কান্তি বসাক এই হামলাকে তৃণমূলের নিজস্ব গোষ্ঠীকোন্দল বলে দাবি করেছেন। তাঁর পাল্টা বক্তব্য: “তুফানগঞ্জ-২ ব্লকে তৃণমূলের ভেতরের লড়াই দীর্ঘদিনের। এখন আমাদের দলের পতাকা ব্যবহার করে ওরা নিজেরাই নিজেদের বাড়ি ভাঙচুর করছে, যাতে বিজেপিকে কালিমালিপ্ত করা যায়। আমাদের কোনো কর্মী এর সাথে যুক্ত নয়।” আপাতত এলাকায় নতুন করে অশান্তি এড়াতে বক্সিরহাট থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। শুরু হয়েছে পুলিশি টহল। পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলেই দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
