উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: কুমড়ো কেবল একটি সুস্বাদু সবজিই নয়, পুষ্টিগুণে ভরপুর এই সবজিটি হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর। অনেক সময় ভুল ধারণার বশে ডায়াবিটিস রোগীরা মিষ্টি স্বাদের কারণে কুমড়ো (Pumpkin) এড়িয়ে চলেন। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, সঠিক নিয়মে কুমড়ো খেলে তা হার্ট এবং সুগার—উভয়ের জন্যই আশীর্বাদ হতে পারে।
হার্টের সুরক্ষায় কেন সেরা?
কুমড়োকে বলা হয় ‘হার্ট-ফ্রেন্ডলি’ সবজি। এতে থাকা উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃদপিণ্ডের ওপর চাপ কমায়। এছাড়া কুমড়োতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যেমন ভিটামিন সি, ই এবং বিটা-ক্যারোটিন রয়েছে। এই উপাদানগুলো ধমনীর দেয়ালে কোলেস্টেরল জমতে বাধা দেয়, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। এর পাশাপাশি কুমড়োর ফাইবার শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ডায়াবেটিস রোগীরা কি খেতে পারবেন?
অনেকের ধারণা, মিষ্টি স্বাদের কারণে কুমড়ো খেলে রক্তে সুগার বেড়ে যাবে। এই ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয়। যদিও কুমড়োর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কিছুটা বেশি, তবে এর ‘গ্লাইসেমিক লোড’ অত্যন্ত কম (মাত্র ৩)। কুমড়োর প্রায় ৯৪ শতাংশই জল এবং এতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ খুবই কম। তাই নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে কুমড়ো খেলে তা রক্তে শর্করার মাত্রায় বড় কোনো প্রভাব ফেলে না।
সতর্কতা ও পরামর্শ: ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কুমড়ো খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি:
পরিমাণ: একবারে এক বাটি বা মাঝারি সাইজের ১-২ টুকরোর বেশি কুমড়ো না খাওয়াই ভালো।
রান্নার ধরন: কুমড়ো রান্নায় অতিরিক্ত তেল, মশলা বা চিনি/গুড় এড়িয়ে চলুন। হালকা তরকারি বা সুপ হিসেবে খাওয়া সবচেয়ে উপকারী।
কুমড়োর বীজ: কুমড়োর বীজ ডায়াবিটিস ও হার্ট উভয়ের জন্যই দারুণ উপকারী। এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ম্যাগনেসিয়াম সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে। বীজগুলো শুকিয়ে হালকা ভেজে স্ন্যাক্স হিসেবে খেতে পারেন।
পরিশেষে, কোনও খাবারই অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। সঠিক পরিমাপ ও সঠিক রান্নার পদ্ধতি মেনে চললে কুমড়ো আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় একটি স্বাস্থ্যকর সংযোজন হতে পারে।

