উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: টানটান উত্তেজনা আর চরম নাটকের পর শেষ হাসি হাসল গেরুয়া শিবির (West Bengal Election Outcomes 2026)। রাজারহাট-নিউটাউন (Rajarhat Newtown) কেন্দ্রে ভোটগণনার একেবারে শেষলগ্নে বড় চমক দিয়ে জয়ী হলেন বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কানোরিয়া (BJP)। তৃণমূল প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায়কে মাত্র ৩১৬ ভোটে হারিয়ে বিজেপির ঝুলি আরও একটি আসন দিয়ে ভরিয়ে দিলেন তিনি।
সোমবার সতেরো রাউন্ড গণনা শেষে দেখা গিয়েছিল, তাপস চট্টোপাধ্যায় ৩২৩ ভোটে এগিয়ে আছেন। তবে এরপর পুনর্গণনার দাবি জানান বিজেপি প্রার্থী। নির্বাচন কমিশন সেই আবেদন মঞ্জুর করে নির্দিষ্ট কিছু বুথে রি-কাউন্টিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। আর সেই পুনর্গণনাতেই সম্পূর্ণ উলটে যায় ফলাফল। যে জয়ের মালা তাপসের গলায় ওঠার কথা ছিল, শেষ মুহূর্তে তা ছিনিয়ে নেন পীযূষ। তিনি মোট ১ লক্ষ ৬ হাজার ৫৬৪ ভোট পেয়েছেন। এর ফলে বিজেপির প্রাপ্ত আসন সংখ্যা বেড়ে হল ২০৭। তৃণমূল পেল ৮০ আসন।
এবারের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে রইল। এবারের ফলাফলে শাসকদলের পায়ের তলার মাটি কার্যত সরে গিয়েছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি হারের মুখ দেখতে হয়েছে রাজ্য মন্ত্রীসভার প্রায় দুই ডজন সদস্যকে। পরাজিত হেভিওয়েটদের তালিকায় রয়েছেন অরূপ বিশ্বাস, ব্রাত্য বসু, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা এবং মানস ভুঁইয়ার মতো দাপুটে নেতারা। এমনকি সুজিত বসু, রথীন ঘোষ এবং বেচারাম মান্নার মতো প্রভাবশালী মন্ত্রীরাও নিজেদের আসন রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
রাজারহাট-নিউটাউনে তাপস চট্টোপাধ্যায়ের হার তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা। এলাকায় তাঁর দাপট ও সাংগঠনিক ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও শেষ রক্ষা হলো না। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছিল, ফিরহাদ হাকিম বা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো তাপসও কি তরী পার করতে পারবেন? কিন্তু অবশেষে সেই জল্পনার অবসান ঘটল। নিজের গড়ে পরাজিত হলেন এই সংগঠক।
