সিদ্ধার্থশংকর সরকার, পুরাতন মালদা: বিলের বকেয়া মেটানো হয়নি। তাই নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বিজেপি প্রধানের বাড়িতে গিয়েছিলেন মঙ্গলবাড়ি বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির স্টেশন ম্যানেজার। তবে হঠাৎই ওই সরকারি আধিকারিকের ওপর চড়াও হন প্রধান। রীতিমতো তাঁর গলায় হাঁসুয়া ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পুরাতন মালদার নবাবগঞ্জ এলাকায় ওই ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায়।
বৃহস্পতিবার রাতেই জেলা বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির তরফে মালদা থানায় ওই প্রধানের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা এবং হেনস্তার অভিযোগে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির রিজিওনাল ম্যানেজার সৌমেন দাস বলেন, ‘বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সময় আমাদের দপ্তরের আধিকারিককে হাঁসুয়া নিয়ে ভয় দেখানো হয়। তাঁকে হেনস্তা করা হয়েছে। আমরা এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।’
মালদা থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।
এদিকে, তৃণমূলের পুরাতন মালদা ব্লক সভাপতি সুদীপ্ত রায় ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, ‘সরকারি আধিকারিকের উপর এ ধরনের আক্রমণ কোনওমতেই মেনে নেওয়া যায় না। উত্তরপ্রদেশের মডেল বাংলায় চলবে না। আমরা এর তীব্র নিন্দা করছি। প্রশাসন যাতে দ্রুত বিষয়টি দেখে আমরা সেটাই চাইব।’
বিদ্যুৎ দপ্তর সূত্রে খবর, ভাবুক গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান প্রভুনাথ দুবের বাড়িতে বিল বাবদ লক্ষাধিক টাকা বকেয়া হয়েছে। ওই বিপুল অঙ্কের বকেয়া পরিশোধের জন্য বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকরা একাধিকবার প্রধানের বাড়িতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বকেয়া মেটানো হয়নি। শেষপর্যন্ত বৃহস্পতিবার বিকেলে স্টেশন ম্যানেজার গণেশ চৌধুরী কর্মীদের নিয়ে প্রধানের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে যান।
অভিযোগ, সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সময়ই প্রধান তাঁকে আক্রমণ করতে উদ্যত হন। ওই ঘটনায় আধিকারিক ভয় পেয়ে যান। পরে এলাকাবাসীর তৎপরতায় প্রাণে বাঁচেন ওই স্টেশন ম্যানেজার। ঘটনার পরই তিনি অসুস্থ বোধ করেন। এদিকে, অভিযুক্ত বিজেপি প্রধান প্রভুনাথ দুবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘কী হয়েছে আমার জানা নেই।’
মালদা বিধানসভার বিধায়ক (বিজেপি) গোপালচন্দ্র সাহা বলেন, ‘আইন আইনের পথে চলবে। তবে বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিক বিনা নোটিশে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়েছিলেন, এটা ঠিক নয়।’
