শিলিগুড়িঃ মিউটেশনের জাল রিসিট কপি (Pretend Mutation Receipt) ঘিরে বিতর্ক তৈরি হল শিলিগুড়ি পুরনিগমে (Siliguri Municipal Company)। চলতি মাসের শুরুতে আশ্রমপাড়ার বাসিন্দা রাজকুমার আগরওয়াল নামে এক ব্যক্তি পুরনিগমে এসে দুটো রিসিট কপি সহ একটি চিঠি জমা করেন। তিনি অভিযোগ করে জানান, দু’বার তিনি মিউটেশনের টাকা পেমেন্ট করেছেন। তাই একটির টাকা তিনি রিফান্ড চাইছেন। যদিও সেই রিসিট কপি দুটো পরীক্ষা করতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় পুরনিগমের কর্তাদের। পুরনিগমের অভিযোগ, একটি রিসিট কপি পুরোপুরি জাল। এমনকি সেই কপিতে থাকা স্বাক্ষর ও স্ট্যাম্পও জাল। এ নিয়ে ইতিমধ্যেই পুরনিগমের তরফে শিলিগুড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ডিসিপি (ইস্ট) রাকেশ সিং বলেন, ‘গোটা ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে।’
এদিকে, এব্যাপারে রাজকুমার কোনও মন্তব্য করতে নারাজ। প্রথমবার মিউটেশনের টাকা পেমেন্ট করে রিসিট কপি পেয়ে গেলেও ফের তিনি পেমেন্ট করলেন কেন? এমনকি ওই পেমেন্টের প্রায় তিন বছর পর কেন তিনি রিফান্ডের ব্যাপারে পুরনিগমের দ্বারস্থ হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। জাল রসিদের রহস্য উন্মোচন করতে রাজকুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। পুরনিগমের মেয়র পারিষদ রামভজন মাহাতো বলছেন, ‘ওই ব্যক্তি জাল রসিদ কীভাবে পেলেন, সেব্যাপারে আমাদের কিছু জানা নেই। শুধুমাত্র একবার পেমেন্ট হয়েছে। সেই সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। অন্য রিসিট কপিটি ওই ব্যক্তি কোথা থেকে কীভাবে জোগাড় করলেন, পুলিশ তদন্ত করলেই পুরো বিষয়টা প্রকাশ্যে আসবে। তবে, ওই সময় অফলাইনেই মিউটেশনের কাজ হত।’
রাজকুমারের কাছে ১৮,৮৫৫ টাকার দুটো রসিদ রয়েছে। দুটোতেই সিল মারা। একটি কাটা হয়েছে ২০২২ সালের ৩০ ডিসেম্বর, তার নম্বর ৭৪০৮। ওই হোল্ডিং নম্বরেই আরেকটি রসিদ কাটা হয়েছে ২০২৩ সালের ১৮ জানুয়ারি। অর্থাৎ ১৯ দিন পর, যার নম্বর ৮০৮০। পুরনিগমের তরফে দায়ের করা অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, একবারের টাকা ফেরত েপতে দুটো রসিদ পুরনিগমে জমা দেন রাজকুমার। এরপর তদন্ত করে দেখা যায়, ২০২২ সালের ৩০ ডিসেম্বরের রিসিট কপিটি ভুয়ো।
