উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ বিজেপির মতো একটি শক্ত ঘাঁটিতে অভাবনীয় ও ‘আকস্মিক’ পরাজয়ে স্বাভাবিকভাবেই পদ্মশিবিরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে (Prashant Kishor wins Bankipur)। তবে এই ফলাফলে স্বস্তিতে নেই বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ও। বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করলে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, এই জয় কেবল বিজেপির দুর্গ ভাঙার গল্প নয়, বরং রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাওয়ার এক বড় ইঙ্গিত।
বাঁকিপুরের এই হাইভোল্টেজ উপনির্বাচনে প্রায় ৫০ শতাংশ (৪৯.২৩%) ভোট পেয়ে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন প্রাক্তন ভোটকুশলী তথা জনসুরাজ পার্টির নেতা প্রশান্ত কিশোর (যিনি রাজনৈতিক মহলে ‘পিকে’ নামেই পরিচিত)। এখানে গত বিধানসভা ভোটের তুলনায় বিজেপির ভোট কমেছে ২৮.২৬ শতাংশ। বিজেপি প্রার্থী নীরজকুমার সিন্হা পেয়েছেন মাত্র ৩৪.৪০% ভোট।
অন্যদিকে, মাত্র আট মাসের ব্যবধানে এই কেন্দ্রে লালুপ্রসাদ-তেজস্বী যাদবের দল আরজেডি-র (RJD) ভোট কমেছে ১৮.৬০ শতাংশ। তাঁদের প্রার্থী রেখাকুমারী গুপ্ত মাত্র ১০.৯৫% ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে চলে গিয়েছেন।
২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় ফল করলেও খাতায়কলমে এখনও তারা রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল। কিন্তু বাঁকিপুরের ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সাধারণ মানুষ বিজেপি বিরোধিতার প্রশ্নে চেনা বিরোধী মুখ হিসেবে আরজেডিকে আর ভরসা করছেন না। বরং সম্পূর্ণ আনকোরা এবং প্রথমবার ভোটে লড়তে নামা প্রশান্ত কিশোরের ওপর বেশি আস্থা রেখেছেন ভোটাররা।
বিশ্লেষকদের মতে, আরজেডির ঐতিহ্যগত সুসংহত যাদব এবং মুসলিম ভোটব্যাঙ্কেও বড় রকমের ভাগ বসিয়েছেন ব্রাহ্মণসন্তান পিকে। যার জেরে এক ধাক্কায় প্রায় ২০ শতাংশ ভোট হারাতে হয়েছে লালুর দলকে।
আরজেডি নেতৃত্বের একাংশ অবশ্য সাফাই দিয়ে বলছেন যে, রাজধানী পাটনার ভরকেন্দ্রে থাকা বাঁকিপুর আসনটিতে ঐতিহাসিকভাবেই তাঁরা দুর্বল। ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত পর পর চার বার এই কেন্দ্রে জিতেছিল বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের পরিবার। তবে দলের নেতারাও এটা মেনে নিচ্ছেন যে, এতদিন যে বিজেপি-বিরোধী ভোটগুলো তাঁদের ঝুলিতে আসত, এবার তার একটা বড় অংশই ছিনিয়ে নিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর।
বাঁকিপুরের এই ফলাফল গভীরভাবে ভাবাচ্ছে কংগ্রেসকেও। দলের অন্দরের একটি বড় অংশ এখন থেকে আরজেডি-র সঙ্গে দীর্ঘদিনের জোট সম্পর্ক ছাড়ার জোরালো দাবি তুলতে শুরু করেছে। তাঁদের যুক্তি, লালুপ্রসাদ যাদবের দলের গায়ে লেগে থাকা ‘জঙ্গলরাজের’ তকমা তাঁরা কিছুতেই ঝেড়ে ফেলতে পারছেন না, ফলে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে তারা ব্যর্থ হচ্ছেন।
তাছাড়া, কংগ্রেস নেতাদের একাংশের মতে, বিহারের এনডিএ সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ উচ্চবর্ণের ভোটাররা তাঁদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন এই নির্বাচনে। দীর্ঘ দু’দশক ধরে পটনার মসনদে থাকা নীতীশ কুমারকে সরিয়ে অন্য ওবিসি নেতা সম্রাট চৌধুরীকে মুখ্যমন্ত্রী করায় উচ্চবর্ণের ভোটাররা তা ইতিবাচকভাবে নেননি। এই প্রেক্ষাপটে বিহার কংগ্রেসে এখন জোর দাবি উঠেছে যে, প্রথাগত সমীকরণ ভেঙে উচ্চবর্ণের ভোটব্যাঙ্কের কথা মাথায় রেখেই আগামী দিনে দলের কৌশল নির্ধারণ করা উচিত।

