উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল কি তবে খারিজ হতে চলেছে? রাজনৈতিক মহলে এই প্রশ্নই এখন তুঙ্গে। নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং ভোটারদের সরাসরি ‘ঘুষ’ দেওয়ার অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের দল ‘জন সুরাজ’। বিহারে ফের নতুন করে নির্বাচন করানোর দাবিতে শীর্ষ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করেছে তারা।
অভিযোগের তির কোথায়?
জন সুরাজ পার্টির অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে এবং ভোট চলাকালীন সরকার ভোটারদের প্রভাবিত করতে সরকারি অর্থের অপব্যবহার করেছে। পিটিশনে মূলত দুটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে:
• সরাসরি অর্থ সাহায্য (DBT): ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা’-র অধীনে প্রতি পরিবারের একজন মহিলাকে ১০,০০০ টাকা করে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছে সরকার। প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ লক্ষ মহিলা ভোটারকে এভাবে ‘ঘুষ’ দিয়ে ভোট কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ।
• জীবিকা (JEEVIKA) কর্মীদের ব্যবহার: ভোট চলাকালীন প্রায় ১.৮০ লক্ষ জীবিকা গোষ্ঠীভুক্ত মহিলাদের বুথে বুথে মোতায়েন করা হয়েছিল। জন সুরাজ-এর দাবি, এটি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করার সুপরিকল্পিত চাল।
সংবিধান লঙ্ঘনের দাবি
অ্যাডভোকেট আদিত্য সিংয়ের মাধ্যমে দায়ের করা এই আবেদনে জানানো হয়েছে, ভোট ঘোষণার পর এই ধরণের প্রকল্পের সুবিধাভোগী বাড়ানো এবং টাকা দেওয়া সংবিধানের ১৪, ২১, ১১২, ২০২ এবং ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। প্রশান্ত কিশোরের সাফ কথা, “হাজার হাজার দরিদ্র পরিবারকে ১০,০০০ টাকার বিনিময়ে কেনা হয়েছে, যা ডক্টর আম্বেদকরের গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।”
সুপ্রিম কোর্টের শুক্রবারের শুনানির দিকে নজর
সুপ্রিম কোর্টের কার্যতালিকা অনুযায়ী, শুক্রবার অর্থাৎ আজ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হতে পারে।
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক দলগুলোর ‘বিনামূল্যে উপহার’ (Freebies) দেওয়ার সংস্কৃতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ইতিমধ্যেই একটি জনস্বার্থ মামলা (অশ্বিনী উপাধ্যায়ের করা) বিচারাধীন। আদালত আগেই পর্যবেক্ষণ করেছে যে, এই ধরণের জনমোহিনী প্রতিশ্রুতি রাজ্যগুলোকে দেউলিয়া করে দিতে পারে। যদিও ২০১৩ সালের ‘সুব্রহ্মণ্যম বালাজি বনাম তামিলনাড়ু’ মামলায় আদালত বলেছিল, ভোটের পর টিভি বিতরণকে ‘দুর্নীতি’ বলা যাবে না। তবে ভোটের ঠিক আগে ডিবিটি-র মাধ্যমে টাকা দেওয়া কতটা বৈধ, তা নিয়ে এখন বড়সড় আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলছে।
জন সুরাজের দাবি:
১. বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল অবৈধ ঘোষণা করা হোক। ২. নতুন করে স্বচ্ছ নির্বাচন করানো হোক। ৩. ভোট ঘোষণার অন্তত ৬ মাস আগে এই ধরণের আর্থিক প্রকল্প কার্যকর করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির গাইডলাইন তৈরি করা হোক।
