উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আইনের জাল ক্রমশ গুটিয়ে আসছে রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও (BDO) প্রশান্ত বর্মনের (Prasanta Barman) চারপাশে। খুনের মামলায় অভিযুক্ত প্রশান্তকে শুক্রবারের মধ্যে আত্মসমর্পণের কড়া নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Courtroom)। হাতে সময় মাত্র কয়েক ঘণ্টা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি আদালতে ধরা না দিলে, পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারবে— শীর্ষ আদালতের এমন নির্দেশের পর এখন রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
মামলার প্রেক্ষাপট: রাজগঞ্জের বিডিও থাকাকালীন স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের মামলায় নাম জড়ায় প্রশান্ত বর্মনের। এরপর থেকেই আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। গ্রেপ্তারি এড়াতে তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট তাঁর জামিনের আবেদন বা রক্ষাকবচের মেয়াদ না বাড়িয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শুক্রবারের মধ্যেই তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
প্রশাসনের তৎপরতা ও গ্রেপ্তারির ভ্রুকুটি: শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশের পর থেকেই রাজগঞ্জ এবং জলপাইগুড়ি জেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের অন্দরেও এই নিয়ে ফিসফাস তুঙ্গে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করা মানেই আদালত অবমাননা। যদি আজকের মধ্যে তিনি আত্মসমর্পণ না করেন, তবে পুলিশ তাঁকে যেকোনো সময় হেপাজতে নিতে পারে। ইতিমতেই পুলিশের বিশেষ টিম তাঁর গতিবিধির ওপর নজর রাখছে বলে সূত্রের খবর।
বিপাকে অপসারিত বিডিও: বিডিও পদ থেকে তাঁকে আগেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এবার খুনের মামলায় জেলযাত্রার সম্ভাবনা প্রবল হওয়ায় তাঁর প্রশাসনিক কেরিয়ার বড়সড়ো প্রশ্নের মুখে। রাজগঞ্জের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লকের প্রশাসনিক প্রধানের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ এবং সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থান রাজ্য প্রশাসনের ভাবমূর্তিতেও বড় ধাক্কা দিয়েছে।
এখন প্রশ্ন একটাই— প্রশান্ত বর্মন কি আইনের প্রতি সম্মান জানিয়ে শুক্রবার বিকেলের মধ্যে আত্মসমর্পণ করবেন, নাকি পুলিশের হাতে ধরা পড়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন? জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri Information) মানুষ এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে।
