উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে কাশ্মীরে দেখা মিলল মরসুমের প্রথম তুষারপাতের। গত কয়েক মাসের দীর্ঘ ‘শুষ্ক স্পেল’ কাটিয়ে রূপোলি চাদরে ঢাকা পড়েছে গোটা উপত্যকা। তবে এই তুষারপাত একদিকে পর্যটক ও স্থানীয়দের মনে আনন্দ আনলেও, তীব্র তুষারঝড় ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সড়ক, আকাশপথ ও রেল যোগাযোগ।
তুষারপাতের জেরে স্তব্ধ যোগাযোগ ব্যবস্থা
শুক্রবার ভোররাত থেকেই উপত্যকার উঁচু এলাকাগুলোতে ভারী এবং সমতলে হালকা থেকে মাঝারি তুষারপাত শুরু হয়। এর জেরে:
• বিমান পরিষেবা বন্ধ: শ্রীনগর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় এবং রানওয়েতে বরফ জমে থাকায় শুক্রবারের সমস্ত উড়ান বাতিল করা হয়েছে। যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
• জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ: শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় সড়কে (NH-44) ভারী তুষারপাত ও পিচ্ছিল রাস্তার কারণে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
• রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: বানিহাল এবং বারামুল্লার মধ্যে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
• বৈষ্ণো দেবী যাত্রা স্থগিত: কাটরা ও ভবন এলাকায় প্রবল বৃষ্টি ও তুষারপাতের কারণে বৈষ্ণো দেবী তীর্থযাত্রা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ঝোড়ো হাওয়া ও ক্ষয়ক্ষতির খবর
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই উপত্যকার বিভিন্ন প্রান্তে শক্তিশালী ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায়। এর ফলে বহু জায়গায় ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, একটি শক্তিশালী ‘ওয়েস্টার্ন ডিস্টার্বেন্স’ বা পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পীর পাঞ্চাল রেঞ্জ এবং দক্ষিণ কাশ্মীরের বেশ কিছু জেলায় শিলাবৃষ্টির সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে পর্যটক ও সাধারণ মানুষকে তুষার পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত রুটে যাতায়াত এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
