উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ শুক্রবার মুম্বাইয়ের বাইকুল্লা এলাকায় মহরমের মিছিল চলাকালীন এক ভয়াবহ নাশকতার ছক বানচাল করল মুম্বাই পুলিশ। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ‘ব্যথানাশক’ বা ‘ইমিউনিটি বুস্টার’ বলে বিষাক্ত ক্যাপসুল (Poison Capsule) বিলি করার সময় ফায়াজ প্রেমজি (Fayyaz Premji) নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের দাবি, সে ওই দিন অন্তত ১৫ হাজার মানুষকে বিষক্রিয়ায় মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেছিল।
এদিন রহমতাবাদ কবরস্থানের কাছে মিছিলে অংশ নেওয়া মানুষের মধ্যে ক্যাপসুল বিলি করছিল অভিযুক্ত ফায়াজ। সে ক্যাপসুলগুলোকে ব্যথা কমানোর ওষুধ বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ওষুধ বলে প্রচার করছিল। কয়েক জন তা খেয়ে অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন। সালমান সায়েদ নামে এক ভুক্তভোগী পেটে ব্যথা ও বমির উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। বর্তমানে অসুস্থ ১১ জনই বিপদমুক্ত বলে জানা গেছে।
হাজার হাজার মানুষের প্রাণ রক্ষা পায় তিন জন নারী স্বেচ্ছাসেবকের সতর্কতায়। তারা অভিযুক্তের সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করেন। ফায়াজ তাদের ‘ইমিউনিটি বুস্টার’ বলে দাবি করলেও, স্বেচ্ছাসেবকরা একটি ক্যাপসুল খুলে ভেতরে পাউডার দেখে সন্দেহ করেন। তারা সঙ্গে সঙ্গে মাইকে ঘোষণা করে জনগণকে সতর্ক করেন এবং পুলিশে খবর দেন। স্বেচ্ছাসেবকদের এই দ্রুত পদক্ষেপে একটি বড় ধরনের ট্র্যাজেডি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
অভিযুক্তের কাছ থেকে অন্তত ১৪,৯০০টি বিষাক্ত ক্যাপসুল বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই ক্যাপসুলগুলোতে ইঁদুর মারার বিষ অর্থাৎ ‘জিঙ্ক ফসফাইড’ (zinc phosphide) মেশানো ছিল। ডিসিপি জয়ন্ত মিনা জানিয়েছেন, অভিযুক্তের কাছে কোনো ধরনের ওষুধ বিতরণের বৈধ অনুমোদন ছিল না। তদন্তে আরও জানা গেছে, ফায়াজ ৩০,০০০ খালি ক্যাপসুল এবং ৫০ কেজি ফসফরাস অর্ডার করেছিল, যা তার ভয়াবহ পরিকল্পনারই ইঙ্গিত দেয়।
বিবিএ স্নাতক ফায়াজের অতীতে ইরান ও ইরাক ভ্রমণের তথ্য সামনে আসায় নড়েচড়ে বসেছে মুম্বাই পুলিশ। কেন সে এই জঘন্য কাজ করতে চেয়েছিল এবং এর পেছনে কোনো বড় কোনো জঙ্গি সংগঠনের মদত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৩ ধারায় (বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষতিসাধন ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র) বাইকুল্লা থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তকে দুদিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

