উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দীর্ঘ ৪০ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিউ জিল্যান্ডের মাটিতে পা রাখলেন ভারতের কোনও প্রধানমন্ত্রী। শনিবার অকল্যান্ডের গভর্নমেন্ট হাউসে মাওরি জনজাতির ঐতিহ্যবাহী ‘পাওহিরি’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi New Zealand Go to)কে যে রাজকীয় সংবর্ধনা জানানো হলো, তা আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ১৯৯৯ সালে বিল ক্লিন্টনের সফরের পর, এই প্রথমবার কোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য নিউ জিল্যান্ডে (New Zealand) তিন স্তরের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হলো। শুক্রবার অকল্যান্ডে পৌঁছালে প্রোটোকল ভেঙে প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন স্বয়ং তাঁকে স্বাগত জানান।
মোদি-লাক্সন বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। কৌশলগত অংশীদারিত্বের লক্ষ্যে ভারত ও নিউ জিল্যান্ড ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৫,০০০ কোটি টাকার বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বস্ত্র, চামড়া ও গয়না শিল্পের মতো শ্রমনিবিড় ক্ষেত্রগুলোতে শুল্ক ছাড়ের পাশাপাশি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তবে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের চেয়েও এদিনের বৈঠকের মূল আকর্ষণ ছিল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা।
যৌথ বিবৃতিতে ভারত ও নিউ জিল্যান্ড স্পষ্ট করেছে যে, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তারা একটি মুক্ত, উন্মুক্ত ও সমৃদ্ধ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার বার্তাটি কার্যত চিনকে লক্ষ্য করেই দেওয়া হয়েছে। ভারত ও নিউ জিল্যান্ডের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক লজিস্টিক সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় এ অঞ্চলে ভারতের সামরিক প্রভাব অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গেও ভারত একই ধরণের সামরিক কৌশলগত চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে, যা এই অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী অক্ষ তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বৈঠক থেকে মোট ১৮টি বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে আগামী চার বছরের সম্পর্ক উন্নয়নের ‘রোডম্যাপ’ অন্যতম। মোদি ও লাক্সনের এই রসায়ন কেবল বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা ভূরাজনৈতিক সমীকরণে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে এক নতুন মেরুকরণের পূর্বাভাস দিচ্ছে। সার্বভৌমত্ব ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে দুই দেশই বুঝিয়ে দিয়েছে, বিশ্ব রাজনীতিতে তারা এখন একে অপরের নির্ভরযোগ্য ‘স্বাভাবিক মিত্র’।

