উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আমরা কি বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ আশ্রয়েও বিষ ছড়িয়ে দিচ্ছি? কর্ণাটকের ব্রহ্মগিরি পাহাড়ের শোলা বনাঞ্চল থেকে আসা একটি ভিডিও এই প্রশ্নটিই নতুন করে তুলে ধরল। পরিবেশবিদ ঈশান শানাভাসের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এক বীভৎস দৃশ্য— যেখানে দেখা যাচ্ছে বুনো হাতির বিষ্ঠার (Elephant Dung) ভেতরে মিলেছে প্লাস্টিক!
অরণ্যের গভীরে মানুষের ‘পাপ’
ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, অরণ্যের গভীর স্তরে হাতির বিষ্ঠার স্তূপ পড়ে রয়েছে। পরিবেশবিদদের কাছে এটি সাধারণত গবেষণার বিষয় হলেও, ঈশান যখন কাছে যান তখন তিনি আঁতকে ওঠেন। বিষ্ঠার ভেতরে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে একটি দুধের প্যাকেটের প্লাস্টিক।
ঈশান শানাভাস আক্ষেপ করে বলেন, “এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা আমাদের পৃথিবীকে কতটা বদলে ফেলেছি এবং এই নিরীহ প্রাণীদের ওপর আমাদের বিলাসিতার বোঝা কতটা চাপিয়ে দিচ্ছি, এটি তারই প্রমাণ।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড়
ভিডিওটি ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন। নেটিজেনদের মন্তব্যে উঠে এসেছে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ:
• অভ্যাসের দাস: একজন লিখেছেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটাই আমাদের বাস্তবতা। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও মানুষের নোংরা ফেলার অভ্যাস যাচ্ছে না।”
• মাইক্রোপ্লাস্টিক আতঙ্ক: অন্য এক বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেছেন, “সমস্যাটি কেবল বিষ্ঠায় নয়, এখন প্রতিটি প্রাণের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিক বাসা বাঁধছে।”
• মানুষের ‘উপহার’: তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোরের উদাহরণ টেনে কেউ কেউ বলছেন, পাহাড়ি ও বনাঞ্চল এলাকাগুলোতে পর্যটকদের ফেলে আসা প্লাস্টিক এখন বন্যপ্রাণীদের যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সমাধান কোথায়?
শানাভাস জোর দিয়েছেন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার (Waste Disposal) ওপর। তাঁর মতে, আমরা যদি আমাদের জঞ্জাল সঠিক জায়গায় ফেলার দায়িত্বটুকু নিতে পারি, তবেই এই ‘জেন্টল জায়ান্ট’-দের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পৃথিবী নিশ্চিত করা সম্ভব। প্রকৃতি কোনও ডাস্টবিন নয়, অথচ মানুষের ভুলে আজ বন্যপ্রাণীদের জীবন বিপন্ন।
