উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী (Kerala Ex CM) পিনারাই বিজয়নের (Pinarayi Vijayan) বাড়িতে ইডির অভিযান (ED Raid)। আর্থিক তছরুপের একটি মামলায় (Cash Laundering case) প্রিম্যাশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর আওতায় বুধবার সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি। সেই তালিকায় রয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর তিরুবনন্তপুরমের বাসভবনও।
সূত্রের খবর, ‘কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড’ (CMRL) নামক একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে বিজয়নের মেয়ে টি বীণার (T Veena) কোম্পানি ‘এক্সালজিক সলিউশনস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর মধ্যে (Exalogic Options) আর্থিক লেনদেনের অনিয়ম নিয়ে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগ, কোনও পরিষেবা প্রদান না করেই সিএমআরএল থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বীণার সংস্থা। মঙ্গলবারই কেরল হাইকোর্ট এই মামলায় ইডির তদন্ত প্রক্রিয়া বন্ধের আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় তদন্তের গতি আরও বৃদ্ধি পায়।
২০২৩ সালের অগাস্ট মাসে প্রথম এই দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। তথ্যানুসারে, ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এক্সালজিক সলিউশনস প্রায় ১.৭২ কোটি টাকা পেয়েছে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রক এই ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দেয়। ২০২৫ সালের এপ্রিলে তদন্তকারী সংস্থা ‘সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিস’ (এসএফআইও) টি বীণা এবং সিএমআরএল-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর শশীধরন কার্থা সহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দেয়।
এসএফআইও-র অভিযোগ, বীণার সংস্থা সিএমআরএল থেকে মোট ২.৭০ কোটি টাকা নিয়েছে। সংস্থার বিরুদ্ধে কোম্পানি আইনের ৪৪৭ নম্বর ধারায় জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে, যেখানে দোষী সাব্যস্ত হলে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের জরিমানার সংস্থান রয়েছে। যদিও এই মামলায় পিনারাই বিজয়নকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়নি, তবুও তাঁর বাড়িতে ইডির হানায় কেরালার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
