উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বারামতীর কাছে এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার (Ajit Pawar airplane crash)। বুধবার মুম্বই থেকে বারামতী যাওয়ার পথে ভেঙে পড়ে তাঁদের চার্টার্ড বিমানটি। এই দুর্ঘটনায় পাওয়ারের পাশাপাশি প্রাণ হারিয়েছেন কো-পাইলট ২৫ বছর বয়সি শাম্ভবী পাঠক (Pilot Shambhavi Pathak) সহ আরও চারজন। শাম্ভভীর অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর আদি বাড়ি গোয়ালিয়রে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নিজের ঠাকুমা মীরা পাঠককে হোয়াটসঅ্যাপে একটি সাধারণ ‘গুড মর্নিং’ বার্তা পাঠিয়েছিলেন শাম্ভবী। ঠাকুমার স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে একরাশ বিষণ্ণতা। তিনি জানান, শাম্ভবী সচরাচর সকালে বার্তা পাঠাতেন না, কিন্তু সেই বুধবারের সেই শুভেচ্ছা বার্তাই যে শেষ যোগাযোগ হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
শাম্ভভীর ধমনীতেই ছিল আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন। তাঁর বাবা বিক্রম পাঠক ছিলেন বায়ুসেনার অবসরপ্রাপ্ত পাইলট। বাবার অনুপ্রেরণাতেই নিউজিল্যান্ড থেকে বাণিজ্যিক পাইলটের প্রশিক্ষণ শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন তিনি। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই দিল্লি, লন্ডন ও রাশিয়ার মতো আন্তর্জাতিক রুটে বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন মেধাবী এই তরুণী। প্রতিবেশীদের চোখে শাম্ভবী ছিলেন অত্যন্ত প্রাণোচ্ছ্বল ও মেধাবী। গত অক্টোবর মাসেই শেষবার গোয়ালিয়রে ঠাকুমার কাছে এসেছিলেন তিনি। সেই চনমনে মেয়েটির এমন মর্মান্তিক বিদায় মেনে নিতে পারছেন না কেউই।
প্রসঙ্গত, আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে নিজের নির্বাচনি ক্ষেত্র বারামতীতে জনসভা করতে যাচ্ছিলেন এনসিপি প্রধান অজিত পাওয়ার। লিয়ারজেট ৪৫ বিমানটি অবতরণের আগেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। শাম্ভবী ছাড়াও বিমানে ছিলেন ক্যাপ্টেন সুমিত কাপুর, বিমানসেবিকা পিঙ্কি মালি এবং পাওয়ারের দেহরক্ষী বিদিপ যাদব।
