ফাঁসিদেওয়া: রাজ্য রাজনীতির পালাবদলের পর দীর্ঘদিন ছিলেন নিষ্ক্রিয়। জমি সংক্রান্ত মামলায় সম্প্রতি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হতে হয়েছিল তাঁকে। সেই বিতর্কিত মুখ তথা বিধাননগরের একদা দাপুটে তৃণমূল নেতা কাজল ঘোষ (Kajal Ghosh) কি এবার যোগ দিলেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে? সম্প্রতি বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বিধাননগরের এই নেতার ছবি প্রকাশ্যে আসতেই তাঁর বিজেপিতে যোগদানের প্রসঙ্গ জোরালো হয়েছে। তবে, সত্যিই তিনি বিজেপিতে যোগদান করেছেন নাকি এটি নেহাতই রাজনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এদিকে দিল্লিতে গিয়ে তাঁর এই পদ্ম-যোগের খবর চাউর হতেই তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে ফাঁসিদেওয়া (Phansidewa) ব্লক সহ গোটা শিলিগুড়ি মহকুমার বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। যদিও, এই যোগদান নিয়ে জেলা নেতৃত্বের একাংশ স্পষ্ট বিভ্রান্তি ও অসন্তোষের সুর বজায় রেখেছেন।
বাম আমলে উত্তরবঙ্গ জুড়ে একচ্ছত্র দাপট দেখানোর পর ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদল ঘটতেই তৃণমূলে নাম লিখিয়েছিলেন ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগরের বাসিন্দা কাজল ঘোষ। এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে জমি মাফিয়া চক্র চালানো ও জমি দখলের একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগেই জমি সংক্রান্ত মামলায় ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল।
এদিকে, বিতর্কিত এই নেতার আকস্মিক পদ্ম-যোগের জল্পনা তৈরি হতেই চরম অস্বস্তিতে পড়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। দলের নিচু স্তরের কর্মীদের একাংশের প্রশ্ন, যাদের বিরুদ্ধে একসময় দুর্নীতি ও জমি মাফিয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তাঁদেরই কোন অঙ্কে দলে টেনে নেওয়া হচ্ছে?
এই বিষয়ে ফাঁসিদেওয়ার বিজেপি (BJP) বিধায়ক দুর্গা মুর্মুকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা সমাজমাধ্যমে একটি ছবি দেখেছি যেখানে তাঁকে যোগদান করতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু ছবিটি আসল নাকি কোনও এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) বা এডিটেড ছবি, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে, ঘটনা যদি সত্যি হয়, তবে আগামী দিনে মানুষই এর বিচার করবেন এবং রায় দেবেন।’
অন্যদিকে, দলের শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অরুণ মণ্ডলের দাবি, এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। বিষয়টি তিনি জানেন না। ফলে, কাজল ঘোষের এই যোগদান রাজ্য বা কেন্দ্রীয় স্তরের কার হাত ধরে হল, তা নিয়ে দলের অন্দরেই ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে কাজল ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

