ফাঁসিদেওয়া: স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শারীরিক নিগ্রহ এবং অন্যায্য ফি (College Charge) আদায়ের একাধিক অভিযোগ তুলে শুক্রবার ২৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করল ফাঁসিদেওয়া (Phansidewa) ব্লকের বিধাননগরের মুরালিগঞ্জ (Muraliganj) হাইস্কুলের পড়ুয়ারা। পড়ুয়াদের এই পথ অবরোধের জেরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে জাতীয় সড়ক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বিধাননগর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও স্কুলের ভিতরেই ক্ষোভ উগরে দেয় বিক্ষোভকারী ছাত্রছাত্রীরা।
জানা গিয়েছে, পড়ুয়াদের মূল ক্ষোভ বিদ্যালয়ের পার্শ্বশিক্ষক সুরজিৎ মণ্ডলকে বরখাস্ত করা এবং বেশ কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগকে ঘিরে। এই বিষয়ে বিক্ষোভকারী নবম শ্রেণির পড়ুয়া দেবরাজ সিং সরাসরি অভিযোগ তুলে বলে, ‘আমাদের বাপ্পিদা অর্থাৎ স্কুলের পার্শ্বশিক্ষক সুরজিৎ মণ্ডলের নামে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে। সে নাকি অসুস্থ ছাত্রকে ৪০০ বার কান ধরে ওঠবোস করিয়েছে! এটা সম্পূর্ণ ভুল। বরং, আমরা যখন এর প্রতিবাদ করি, তখন স্কুলের স্যার ও অন্যান্যরা আমাদের টাই টেনে, কলার ধরে নৃশংসভাবে মেরেছে। ছাত্রীদের গায়েও হাত তোলা হয়েছে। আমাকে কার্যত হাফ মার্ডার করার চেষ্টা চলেছে।’
এই প্রসঙ্গে পার্শ্বশিক্ষক সুরজিৎ মণ্ডল বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন। স্কুলে সিসিটিভি আছে, তা দেখলেই বোঝা যাবে। অসুস্থ কাউকে ওঠবোস করানো হয়নি। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে অন্য শিক্ষকেরা দুর্ব্যবহার করায় তারা রাস্তা অবরোধ করে। প্রশাসন থেকে আমাকে অনুরোধ করায় আমি এসে ওদের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ তুলে দিই। অথচ উল্টে শিক্ষকদের একাংশ পড়ুয়াদের উপর শারীরিক নির্যাতন চালাচ্ছেন।’
অন্যদিকে, সমস্ত মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক সামসুল আলম। তাঁর দাবি, সুরজিৎ মণ্ডল এক ছাত্রকে কান ধরে দীর্ঘক্ষণ ওঠবোস করানোর ফলেই সে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল এবং অভিভাবকদের আপত্তিতেই তাকে ডিসকন্টিনিউ করা হয়েছে।
৮৫০ টাকা ভর্তি ফি ও কম্পিউটার ফি নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘বিদ্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, পর্যাপ্ত সুইপার রাখা এবং একাধিক পার্ট-টাইম শিক্ষক নিয়োগের জন্য পরিচালন সমিতি ও অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই অতিরিক্ত পরিষেবা ফি নেওয়া হয়। মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’
নবম শ্রেণির ছাত্রী দেবলীনা দাস অভিযোগ তোলে, ‘সিসিটিভি ফুটেজ না দেখেই অন্যায়ভাবে স্যারকে এক মাসের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। আমরা প্রতিবাদ করতে গেলে প্রধান শিক্ষক এবং বেশ কয়েকজন স্যার আমাদের দাবি না মেনে ছাত্রীদের গায়েও হাত তোলেন।’ একইসঙ্গে দেবলীনার অভিযোগ, ‘কম্পিউটার ক্লাসের নাম করে এবং ভর্তির সময় ৮৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২২০০ টাকা পর্যন্ত অন্যায্য ডোনেশন নেওয়া হচ্ছে।’

