বিশ্বজিৎ প্রামাণিক,পতিরাম: আত্রেয়ী নদীর চরে গোরুর ফসল খাওয়া নিয়ে গোরুর মালিক ও চরের দখল নেওয়া মানুষদের মধ্যে ছড়াল তীব্র উত্তেজনা। ঘটনাটি ঘটে বালুরঘাট ব্লকের পতিরাম শসরতলি-বর্ষাপাড়া ও বোল্লা পঞ্চায়েত সংলগ্ন পালপাড়া-হরিহরপুর বিস্তীর্ণ নদীচর এলাকায়।
জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক বছর ধরে আত্রেয়ীর মাঝে গজিয়ে ওঠা এই বিরাট উঁচু চর বর্ষায় ডোবে না। বর্ষা শেষে দুই তীরের মানুষ নির্বিঘ্নে চরে যাতায়াত করেন, কেউ চাষ করেন, কেউ গোরু–ছাগল চরান। সবই প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই চলছে বছরের পর বছর। সঙ্গে অবাধে চলে বালি চুরি। অভিযোগ, ভূমি দপ্তর নাকি সব জেনেও এক অজানা কারণে নিশ্চুপ রয়েছে।
চরটিকে ঘিরে বহুদিন ধরেই অভিযোগ উঠছে যে, চরে থাকা বড় বড় গাছ কেটে সাফ করে প্রায় ২০০ বিঘা চরের এলাকা দখল করেছে কিছু ব্যক্তি বা চক্র। স্থানীয়দের দাবি, ফসল চাষ বাহানা মাত্র, আসল উদ্দেশ্য দেদার বালি চুরি। পারপতিরাম থেকে পাগলিগঞ্জ পর্যন্ত আত্রেয়ীর বালি দেদারে লোপাট হলেও ভূমি দপ্তর এবং প্রশাসন প্রায় নিষ্ক্রিয়। মাঝে মাঝে নামমাত্র অভিযান হলেও পরিস্থিতি অপরিবর্তিত।
আজ সকালে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে স্থানীয়দের। অভিযোগ, কিছু গোরু চরে ঢুকে সামান্য ফসল নষ্ট করতেই ‘বেআইনি’ চাষিরা গোরু ধরে আটকে রাখেন এবং গোরুর মালিকদের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এপারের গ্রামবাসী—জয়দেব দাস, পায়েল সিং, সুজন দাস, ভোলা হালদার, রাজু সিং-সহ প্রায় ৫০ জন ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁদের অভিযোগ, ঢুকা কিস্কু, স্বপ্না কিস্কু-সহ কয়েকজন চরের জমি বেআইনিভাবে দখল করে চাষ করছেন, অথচ সাধারণ মানুষের গোরু চরতে গেলেই বাধা দেওয়া হয়। সেই ক্ষোভে আজ তাঁরা শুকনো ঘাসে আগুন লাগিয়ে দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ঘটনার খবর পেয়ে নীচাবন্দরের পঞ্চায়েত সদস্য ও পতিরাম পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা আশুতোষ দাস ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বৃহৎ এলাকা জুড়ে গাছ কেটে চর ঘিরে ফেলেছে একটি চক্র। ফসল চাষের আড়ালে চলছে সুপরিকল্পিত বালি চুরি। সবই উপরমহলের সেটিং।’
পরবর্তীতে খবর পেয়ে পতিরাম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য শোনে। পুলিশের আশ্বাসে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হয় এবং শীঘ্রই থানায় বৈঠক করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হবে বলে জানানো হয়। এদিকে সদ্য দায়িত্ব নেওয়া বালুরঘাটের বিডিও সোহম চৌধুরি ঘটনাপ্রসঙ্গে বলেন, ‘ঘটনার কথা জানতে পেরেছি, বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’
