পতিরাম: রাতের অন্ধকারে আত্রেয়ীর (Atreyi River) বুকে জ্বলজ্বল করছে হাজার হাজার প্রদীপ। নদীর ঘাটজুড়ে মানুষের ঢল। কারও হাতে পুজোর ডালা, কেউ আবার পুণ্যস্নান সেরে ভক্তিভরে প্রার্থনায় মগ্ন। নদীর বুকে ভেসে চলা অগণিত প্রদীপের আলোয় যেন অন্য রূপে ধরা দিল আত্রেয়ী। রবিবার মধ্যরাতে রাধাকুণ্ড স্নানকে কেন্দ্র করে এমনই এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সাক্ষী থাকল পারপতিরাম হালদারপাড়া। ঐতিহ্যবাহী এই স্নান উৎসবে তিন হাজারেরও বেশি পুণ্যার্থীর সমাগমে কার্যত জনজোয়ারের চেহারা নিল গোটা এলাকা।
রাধাগোবিন্দ মন্দির কমিটির উদ্যোগে রবিবার সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয় উৎসবের প্রস্তুতি। পতিরাম (Patiram) ও পারপতিরাম নগর পরিক্রমা করে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। রাত এগারোটা থেকেই আত্রেয়ীর ঘাটে স্নান করতে নামতে শুরু করেন ভক্তরা। রাত বারোটা থেকে একটা পর্যন্ত ভিড় ছিল সবচেয়ে বেশি। পতিরাম, লক্ষ্মীপুর, মণিপুর, বাহিচা, কদমতলি, নিচাবন্দর, অরবিন্দপল্লি ও সাহাপাড়ার পাশাপাশি মালঞ্চা, বালুরঘাট, কুমারগঞ্জ, ডাঙ্গারহাট, ত্রিমোহিনী ও ফুলবাড়ি থেকেও বহু মানুষ টোটো ও অটো ভাড়া করে হাজির হন।
স্নানের পাশাপাশি বিশেষ আরতি এবং নদীর বুকে প্রদীপ ভাসানোর আয়োজন ছিল অন্যতম আকর্ষণ। পতিরাম সেতুর উপর দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য উপভোগ করেন বহু দর্শনার্থী। হাজার হাজার প্রদীপের আলোয় নদীর বুক আলোকিত হয়ে ওঠে। কমিটির পক্ষ থেকে বড় বড় ওয়াচ টাওয়ার বসিয়ে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
কমিটির সদস্য ভক্ত দাস, রিংকু দাস ও কৈলাস সিং জানান, গত বছরের তুলনায় এবার ভিড় অনেকটাই বেশি হয়েছে। তাঁদের কথায়, তিন হাজারের বেশি পুণ্যার্থীর সমাগম হবে, তা তাঁরা ভাবতেও পারেননি। প্রত্যেকের জন্য খিচুড়ি প্রসাদের ব্যবস্থা ছিল। যাঁরা ব্রত পালন করেছিলেন, তাঁদের জন্য ছিল লুচি ও সুজির প্রসাদ। সমস্ত আয়োজন শেষ করে সোমবার ভোরে বাড়ি ফেরেন উদ্যোক্তারা।
লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা পিংকি দাস ও সুধা বিশ্বাসরা জানান, গতবারের মতো এবারও স্নান করতে এসেছিলেন। আগের বছরের তুলনায় এবার ভিড় অনেক বেশি ছিল। অন্যদিকে, নীচাবন্দর এলাকার বাসিন্দা অলিন্দ সরকার জানান, সেতুর উপর থেকে হাজার হাজার মানুষকে স্নান করতে এবং নদীতে প্রদীপ ভাসতে দেখে অভিভূত হয়েছেন তিনি।
নিরাপত্তার দিকেও বিশেষ নজর ছিল প্রশাসনের। নদীর একটি নির্দিষ্ট অংশ বাঁশের বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছিল। তার বাইরে স্নান নিষিদ্ধ ছিল। মোতায়েন ছিলেন প্রচুর পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ার। নদীতেও নৌকা নিয়ে নজরদারি চালানো হয়। ছিল পুলিশের সহায়তা বুথ ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা।
পতিরাম থানার ওসি প্রীতম কুমার সিং জানান, প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের সমাগম হয়েছিল। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় আবেগ, ঐতিহ্য এবং আয়োজনের মেলবন্ধনে রাধাকুণ্ড স্নান ঘিরে পারপতিরামের এই রাত হয়ে উঠল এক স্মরণীয় উৎসবের (Pageant) রাত।

