উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বাচ্চার খাওয়া-দাওয়া নিয়ে চিন্তিত থাকেন না এমন বাবা-মা খুঁজে পাওয়া ভার। প্রতিদিন খাবার টেবিলে এক প্রকার যুদ্ধ চলে—একদিকে বাচ্চার জেদ, অন্যদিকে বাবা-মায়ের জোরাজুরি। কিন্তু জোর করে নয়, বরং কিছু সহজ কৌশলেই আপনার সন্তানের খাদ্যাভ্যাসে বড় বদল আনা সম্ভব।
১. জোর নয়, ধৈর্য ধরুন
বাচ্চাকে জোর করে খাওয়ানো হিতে বিপরীত হতে পারে। এতে খাবারের প্রতি তাদের ভয় বা অনীহা তৈরি হয়। তাই খাবার টেবিলে চিৎকার বা শাসন না করে ধৈর্য ধরুন। সেটুকুও যদি সে নিজে হাতে খায়, তবেই তাকে উৎসাহ দিন।
২. খাবারের চেহারায় আনুন নতুনত্ব
বাচ্চারা সাধারণত রঙিন জিনিস পছন্দ করে। গাজর, বিট বা শাক দিয়ে সাধারণ খাবারকেও রঙিন করে তুলুন। স্যান্ডউইচ বা রুটিকে কোনো মজার শেপ (যেমন- তারা বা ফুল) দিয়ে সাজিয়ে দিন। খাবারের নান্দনিকতা খুদের খিদে বাড়িয়ে দেয়।
৩. একসাথে খাবার খাওয়ার অভ্যাস
বাচ্চারা অনুকরণ করতে ভালোবাসে। যদি পরিবারের সবাই একসাথে বসে পুষ্টিকর খাবার খায়, তবে সেও সেটা দেখে উৎসাহিত হবে। তাকে একা না খাইয়ে বাড়ির সবার সাথে একই খাবার খাওয়ার সুযোগ দিন।
৪. রান্নার কাজে খুদেকে সামিল করুন
সবজি ধোয়া বা ফল সাজানোর মতো সহজ কাজে আপনার সন্তানকে সাহায্য করতে বলুন। যখন সে নিজে কোনো খাবার তৈরিতে অংশ নেবে, সেই খাবারের প্রতি তার আগ্রহ বাড়বে এবং সে আনন্দ নিয়ে তা খাবে।
৫. বিকল্প খুঁজুন
বাচ্চা যদি দুধ না খেতে চায়, তাকে দই বা ছানা দিতে পারেন। যদি সবজি খেতে অনীহা থাকে, তবে তা পরোটা বা স্যান্ডউইচের ভেতরে দিয়ে ‘সারপ্রাইজ’ মিল তৈরি করুন। সরাসরি সবজি না খেলে সুপ বা কাটলেট হিসেবেও ট্রাই করতে পারেন।
৬. টিভি বা মোবাইল ফোন দূরে রাখুন
খাওয়ার সময় মোবাইল বা টিভিতে কার্টুন দেখার অভ্যাস বাচ্চার মনোযোগ খাবারের থেকে সরিয়ে দেয়। এতে সে কী খাচ্ছে বা কতটা খাচ্ছে, তা বুঝতে পারে না। গল্প করতে করতে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। বাচ্চার খাদ্যাভ্যাস একদিনে বদলাবে না। ছোট ছোট পদক্ষেপই ভবিষ্যতে তাকে স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।
