উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: প্রশ্নপত্র ফাঁসের (Paper Leak) গুরুতর অভিযোগের জেরে দুটি ইঞ্জিনিয়ারিং সেমেস্টার পরীক্ষা বাতিল করল বীর মাধো সিং ভান্ডারি উত্তরাখণ্ড টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি (UTU)। একই সঙ্গে অভিযুক্ত এক সহকারী অধ্যাপকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ‘মেশিন লার্নিং ফর ইন্টারনেট অফ থিংস’ (Machine Studying for Web of Issues) এবং ‘ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড থিওরি’ (Electromagnetic Area Concept)—এই দুটি সেমেস্টার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার প্রমাণ মেলার পরই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কীভাবে ফাঁস হল প্রশ্নপত্র?
- হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ফাঁস: বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক অভ্যন্তরীণ তদন্তে জানা গিয়েছে, শিবালিক কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সহকারী অধ্যাপক আশিস কুমার গুপ্ত (Ashish Kumar Gupta) ওই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরীক্ষার আগেই ‘মেশিন লার্নিং ফর ইন্টারনেট অফ থিংস’ পরীক্ষার প্রায় ৯০ শতাংশ প্রশ্ন একটি কলেজ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
- অন্য পরীক্ষাও বাতিল: প্রথম পরীক্ষার তদন্ত চলাকালীনই ‘ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড থিওরি’ প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও মারাত্মক গাফিলতি ও ফাঁসের ইঙ্গিত পায় বিশ্ববিদ্যালয়। এর পরেই সুরক্ষার্থে ওই পরীক্ষাও বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ঘটনা প্রসঙ্গে উত্তরাখণ্ড টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য তৃপ্তা ঠাকুর জানিয়েছেন, পরীক্ষার গোপনীয়তা রক্ষা করাই তাঁদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়েছে।
উপাচার্য বলেন, “প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্ববিদ্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে এবং দুটি সেমেস্টার পরীক্ষা বাতিল করে। তদন্তে দেখা গেছে, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে শেয়ার করা প্রশ্নগুলির সঙ্গে মূল পরীক্ষার ৯০ শতাংশ প্রশ্ন হুবহু মিলে গেছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে অভিযুক্ত অধ্যাপকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কলেজের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

