পারডুবি: রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট হলো কোচবিহারের স্থানীয় রাজনীতিতে। অবশেষে মাথাভাঙ্গা ২ নম্বর ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতিতে বোর্ড গঠন করল ভারতীয় জনতা পার্টি (Panchayat Samiti board formation BJP)। মঙ্গলবার মাথাভাঙ্গা ২ ব্লকের বিডিও অফিসে কঠোর নিরাপত্তা ও পুলিশি পাহারার মধ্যে পঞ্চায়েত সমিতির এই নতুন বোর্ড গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আর এই রাজনৈতিক পালাবদলে মাথাভাঙ্গা ২ পঞ্চায়েত সমিতির নতুন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হলেন বিজেপির অরবিন্দ বিশ্বাস।
উল্লেখ্য, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৩০ আসন বিশিষ্ট মাথাভাঙ্গা ২ পঞ্চায়েত সমিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস ১৭টি আসন এবং বিজেপি ১৩টি আসন পেয়েছিল। অঙ্কের হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেসই পঞ্চায়েত সমিতিতে বোর্ড গঠন করেছিল এবং সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন সাবলু বর্মন।
কিন্তু পরবর্তীতে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ও রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বিজেপির তিনজন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য দলবদল করে তৃণমূলে যোগ দেন, যা ক্ষমতার সমীকরণ সাময়িকভাবে বদলে দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। এর জেরে পঞ্চায়েত সমিতির তৎকালীন সভাপতি সাবলু বর্মন তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। সেই পদ শূন্য হওয়ার পরই মঙ্গলবার নতুন করে বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং বিজেপির অরবিন্দ বিশ্বাসকে নতুন সভাপতি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।
এদিনের এই বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে মাথাভাঙ্গা বিডিও অফিস চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়ায়। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও গোলমাল এড়াতে পুলিশ প্রশাসন গোটা চত্বরে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছিল। বোর্ড গঠনের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন, জেলা সহ-সভাপতি প্রতাপ সরকার-সহ দলের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব ও কর্মীরা।
দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনির্বাচিত সভাপতি অরবিন্দ বিশ্বাস সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “দলের পক্ষ থেকে আমাকে যে গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তা পালন করার চেষ্টা করব। কোনো রাজনৈতিক ভেদাভেদ নয়, এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে সকলকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে চাই।” পাশাপাশি, এলাকার সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানি ছাড়া সঠিক সময়ে সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও পরিষেবা পান, সেই বিষয়টিও তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
বিরোধী দলের হাতছাড়া হয়ে বিজেপির এই নতুন বোর্ড ক্ষমতা দখলের পর এখন এলাকার সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে আগামী দিনে এই নতুন বোর্ড উন্নয়নমূলক কাজে ঠিক কতটা গতি আনতে পারে সেদিকেই।

